*কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে দৈনিক বাংলার সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা*
*মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:*
কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দৈনিক বাংলার সংবাদের প্রতিনিধি হিসেবে মোঃ আলমগীর হোসেনকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, অনিয়ম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য মোঃ আলমগীর হোসেনকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলায় সাংবাদিকতার কার্যক্রম শুরু করেন।
তবে নিয়োগের পরপরই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্থানীয় সাংবাদিক সাহাদাৎ হোসেন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জের ধরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি পত্রিকার দায়িত্ব নিয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে চাই। কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে সংবাদ করবো না। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক সাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
*অনুমোদনবিহীন অনলাইন পত্রিকা নিয়ে সারাদেশে বিতর্ক*
এদিকে বর্তমানে সারাদেশে অসংখ্য অনলাইন পত্রিকা ও নিউজ পোর্টাল প্রকাশিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে অনেকগুলোই সরকারের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই চলছে। ফলে সাংবাদিকতার মান, তথ্যের সত্যতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দৈনিক বাংলার সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ আবুল হাসেম বলেন, “সরকার চাইলে পত্রিকাগুলোকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিতে পারে। অনুমোদনের আওতায় আসলে পত্রিকাগুলো দায়বদ্ধ থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো পত্রিকা বা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। অনুমোদন থাকলে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে, আর প্রকৃত সাংবাদিকরাও নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মনোহরগঞ্জের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। সারাদেশেই প্রতিনিধি নিয়োগ, আধিপত্য ও অনলাইন পত্রিকার অনুমোদন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তারা মনে করেন, সাংবাদিকদের উচিত ব্যক্তিগত বিরোধ ভুলে পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করা। আর সরকারের উচিত নীতিমালার আলোকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।