মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
Headline :
*হাসনাবাদে ত্যাগী নেতাকে চেয়ারম্যান পদে জনাব আব্দুল মজিদ ভূইয়া কে সমর্থনের আহ্বান জানান, আবুল হাসেম ডিলারের* কলমের গায়ে দাগ কলমে /সাংবাদিক এম বাদল খন্দকার। অপেক্ষার অবসান! পীরগঞ্জে এই প্রথম আন্তর্জাতিক মানের জীম!শীঘ্রই শুভ দিনাজপুরে আদা চাষের আড়ালে গাঁজা চাষ! যুবক গ্রেপ্তার আরমান হোসেনরাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ রাজাপুরের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা “নাছিম সোহেল”-কে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেখতে চান আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডোমারের ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ রুপা গ্রেপ্তার; ঝুলছিল ৩০টির বেশি মামলা আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ দেশীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রুখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান—সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর। লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান 🦟 ১নং খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের যুব সমাজের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ওসমানীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী সরকারিভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন –

Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ওসমানীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী সরকারিভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন – আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এডভোকেট এ এম এম ইসা,
গত রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বঙ্গবীর এম. এ. জি. ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নিউক্যাসলের (যুক্তরাজ্য) গসফর্থ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে এন্ড টেকঅ্যাওয়েতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়.
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি (এম. এ. জি.) ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ, নিউক্যাসল, ইউকে শাখার উদ্যোগে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নিউক্যাসল শাখার প্রেসিডেন্ট মো. কাপ্তান মিয়া এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ মাসুম। প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. মালেক খান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা। বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থ ইস্ট বিএনপির সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান মুন্না। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এম. এ. শাহান চৌধুরী, এম. এ. মুন্না ও ফাতেহুল আলম শাকিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. মালেক খান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. মালেক খান বলেন, “এম. এ. জি. ওসমানীর সামরিক নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং বিজয় অর্জন করেছি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষণ করতে হবে।”
তিনি ওসমানীর সামরিক নেতৃত্ব ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ফিল্ড মার্শাল মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে ওসমানীর জীবন, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও ত্যাগ সম্পর্কে আরও বিস্তৃতভাবে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ‘বঙ্গবীর’ হিসেবে এম. এ. জি. ওসমানীর যে ঐতিহাসিক পরিচিতি রয়েছে, সেই পরিচয় ও মর্যাদা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”
তিনি সরকার ও জনগণের প্রতি ওসমানীর ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানান।
তিনি আরও কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন: ওসমানীর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সামরিক নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা; স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা; তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা; দেশে ও প্রবাসে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা, সেমিনার ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা; এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্থ ইস্ট বিএনপির সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান মুন্না বলেন, ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী এম. এ. জি. ওসমানী ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিবাহিনীর Commander-in-Chief হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতৃত্ব ও সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. কাপ্তান মিয়া বলেন, “প্রবাসে বসবাস করলেও আমাদের শিকড় বাংলাদেশে। নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, ওসমানীর জন্মবার্ষিকী পালন কেবল একজন মহান ব্যক্তিকে স্মরণ করা নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম।
কবির আহমেদ মাসুম
সভা পরিচালনাকালে কবির আহমেদ মাসুম বলেন, “প্রবাসে আমাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”
তিনি বলেন, ওসমানীর নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকার থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
এম. এ. শাহান চৌধুরী বলেন, “ওসমানী শুধু একজন সামরিক নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও গবেষণা এবং প্রামাণ্য উদ্যোগ প্রয়োজন।”
এম. এ. মুন্না বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে জাতীয় ইতিহাস হিসেবে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। ওসমানীর অবদান সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
ফাতেহুল আলম শাকিল বলেন, “নতুন প্রজন্মকে শুধু স্বাধীনতার ঘটনা জানালেই হবে না; যাঁরা সেই স্বাধীনতার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন, সংগ্রাম করেছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের জীবন ও আদর্শও জানতে হবে।”
সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে দেশে ও প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এম. এ. জি. ওসমানীর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।


More News Of This Category