সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ঘটনার ৪০ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার জিনাজপুর বিওপি আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। নিহত আসাদুল পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত অপর দুই বাংলাদেশি—উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। পরবর্তীতে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের ১৪ দিনের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভারতীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রোববার দুপুরে শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে রোববার রাতে মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”