কুড়িগ্রামে গর্তে মিলল নিখোঁজ শিশুর লাশ, র্যাবের হাতে অভিযুক্ত গ্রেফতার
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কুমরপুর গ্রামে নিখোঁজের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ বাড়ির পাশের টিউবওয়েলের গর্ত থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুকন্যা বিথী রাণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্বারতী রানী ওরফে দুঃখ (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)।
গ্রেফতারকৃত—স্বারতী রাণী উত্তর কুমরপুর গ্রামের শ্রী রবী নাথ চন্দ্রের স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে বিথী রাণী নিজ বাড়িতে মায়ের সাথে ঘুমিয়ে ছিল। দুপুর ২:৩০ মিনিটের দিকে ঘুম ভাঙলে মা দেখেন বিথী পাশে নেই। পরবর্তীতে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে বিথীর বাবা কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি শেষে বাবা বাড়ি ফেরার পথেই সংবাদ পান যে, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে নাদো হোসেনের বাড়ির পেছনে টিউবওয়েলের ড্রেনের ময়লা পানিতে তাঁর মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ সময় নিহত শিশু বিথীর ডান কান এবং গলার বাম পাশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ নিহতের বাবা অমল চন্দ্র বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১১) দায়ের করেন।
ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করায় আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায় র্যাব-১৩। গোয়েন্দা নজরদারির ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫০ মিনিটে র্যাব-১৩ (রংপুর সদর কোম্পানী)-এর একটি আভিযানিক দল উত্তর কুমরপুর (মাঝিপাড়া) গ্রামের রবী নাথ চন্দ্রের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি স্বারতী রাণী ওরফে দুঃখকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত—আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কুড়িগ্রাম সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সামাজিক অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।