সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
Headline :
উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মেধা মূল্যায়ন পরীক্ষার সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠিত মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: প্রেস বিজ্ঞপ্তি, দলের ভেতরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্রে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় দিনাজপুর বীরগঞ্জের পল্লীতে ২১৫ পিস ট্যাপেন্ডাডল সহ মাদক ব্যবসায়ী হারুন রশিদ জুয়েল গ্রেফতার. রনজিৎ সরকার রাজ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে : সাবেক ছাত্রদল নেতা মেরাজ হোসেন মানিকের সাথে ছাত্রদলের মতবিনিময়* নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক বাংলার সংবাদ। আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ মনোহরগঞ্জের মৈশাতুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল কাদের চৌধুরী’র শোডাউন স্টাপ রিপোর্টার (মনোহরগঞ্জ) কুমিল্লা প্রশাসনের হুঁশিয়ারির পর সরকারি সম্পদ ফেরত, লুটের পর ফিরছে বাঁধের ব্লক, এখনও নিখোঁজ ১,০৬৬ (নেত্রকোণা) মোঃ শফিকুল ইসলাম জুয়েল সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র রিপোটার,,,, নীলফামারীর টেক্সটাইলে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে ৫০ এর অধিক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি/স্পটে চিরুনি অভিযান, আটক ২* আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ পঞ্চগড়ে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মানব পাচারের অভিযোগে নারীসহ আটক ৫ আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ গাইবান্ধা বাণিজ্য মেলায় ৪০ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্নপূরণের সুযোগ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি, দলের ভেতরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্রে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়

Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি,
দলের ভেতরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে রাষ্ট্রে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়
পিরামিড ডেমোক্রেসি চর্চা ও স্বাধীন সংসদের আহ্বান করেছেন অ্যাডভোকেট এএনএম ইসা, প্রতিষ্ঠাতা এবং কেন্দ্রীয় আহবায়ক, আন্তর্জাতিক রেমিটেন্সে যোদ্ধা সংসদ. লন্ডন, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা, জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে International Remittance Juddah Shonshod-এর উদ্যোগে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক Philosopher Deshbandhu Advocate A. N. M. Essa। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসিমুল গনি। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এম. এ. রউফ।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—গণতন্ত্র শুধু জাতীয় নির্বাচন বা ভোটের দিনের বিষয় নয়; রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তর থেকেই গণতন্ত্রের শিক্ষা, চর্চা, জবাবদিহিতা এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক দল হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব তৈরির প্রধান প্রতিষ্ঠান। একটি দলের ভেতরে যদি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিয়মিত নির্বাচন, নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং সাধারণ কর্মীদের মতামতের মূল্য না থাকে, তাহলে সেই দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসিমুল গনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সমাজের সব অংশকে রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, “জনগণ শুধু ভোটার নয়, জনগণই রাষ্ট্র গড়ার কারিগর। নির্বাচনের দিনে জনগণকে প্রয়োজন হবে আর বাকি সময় তাদের মতামত উপেক্ষিত হবে—এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রকৃত গণতন্ত্র সৃষ্টি করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের প্রত্যাশা করাও কঠিন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সবাই নিজেদের সেই সিদ্ধান্তের অংশ মনে করেন। রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু আলোচনার দরজা কখনো বন্ধ করা যাবে না।
গণতন্ত্রের শক্তি বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে নিয়ে আসার মধ্যেই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে Philosopher Deshbandhu Advocate A. N. M. Essa বলেন, নেতৃত্ব ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়, নিচের স্তরের জনগণ ও কর্মীদের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচিত হয়ে ওপরে উঠতে হবে।”
তিনি বলেন, একটি পিরামিডের শক্তি যেমন তার প্রশস্ত ভিত্তিতে, তেমনি গণতন্ত্রের শক্তিও সাধারণ জনগণ ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে। স্থানীয়, আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায় অতিক্রম করে নেতৃত্ব তৈরি হলে সেই নেতৃত্ব জনগণের কাছে বেশি দায়বদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের শূন্যস্থান সৃষ্টি হলেই একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারের সুযোগ তৈরি হয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।”
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ খ -এর দলীয় নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তার মতে, সংসদ সদস্যদের বিবেক, নির্বাচনী এলাকার জনগণ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের যথেষ্ট সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ যদি শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তাহলে এই আদর্শ বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরা দেশ পরিচালনা করেন, কিন্তু রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক চরিত্রও তৈরি হয় দলের গঠনতন্ত্র, অভ্যন্তরীণ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মাধ্যমে।
“সরিষার মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তাহলে সেই ভূত তাড়ানো কঠিন। একইভাবে রাজনৈতিক দলের ভেতরেই যদি গণতন্ত্রের সংকট থাকে, তাহলে সেই দল রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে কীভাবে?”—তিনি প্রশ্ন করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শুধু জানতে হবে না; শিখতে হবে, বুঝতে হবে, মানতে হবে, চর্চা করতে হবে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।
দেশের উন্নয়নে মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে একটি বৃহত্তর “দেশযোদ্ধা” চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এম. এ. রউফ বলেন, “রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কারও করুণা চান না; আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।” তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সমাজের কোনো অংশকে বাদ দেওয়া যাবে না। মুক্তিযোদ্ধা, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তরুণ সমাজ, পেশাজীবী এবং দেশের সাধারণ মানুষ—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। তিনি বলেন,“বাংলাদেশকে আমরা মায়ের মতো দেখি। তাই দেশের সম্পদ নষ্ট করা, দুর্নীতি করা কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যে কোনো কার্যক্রমকে আমরা ঘৃণা করি।”
প্রারম্ভিক বক্তব্যে ড. শরিফ সাকি বলেন, গণতন্ত্র কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। পরিবার, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্র—সব স্তরে মতামতের প্রতি সম্মান এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি যুক্তি দেন, যে নাগরিক ছোট পরিসরে গণতান্ত্রিক আচরণ শেখে না, তার কাছ থেকে বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় পরিসরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রত্যাশা করা কঠিন।
সুতরাং গণতন্ত্রকে শুধু সাংবিধানিক কাঠামো হিসেবে নয়, দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের দুর্বলতার পেছনে ঐক্যের অভাব, নিয়মিত গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব এবং পরস্পরের মতামত সহ্য করার সংস্কৃতির ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন করলেই গণতন্ত্র সম্পূর্ণ হয় না। নির্বাচনের আগে ও পরে মানুষের কথা শোনা, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলা এবং বিরোধী মতের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকার করাও গণতন্ত্রের অংশ।
T
হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে।
দলের কমিটি, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ সদস্য ও তৃণমূলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আব্দুল ওহাব রিঙ্কু বলেন,
“গণতন্ত্র শুধু মুখে বললে চলবে না। এটিকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং রাজনৈতিক আচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।”
তিনি বলেন, বক্তব্যে গণতন্ত্রের কথা বলা অথচ সংগঠনের সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করা হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র নয়।

জাতীয় তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক ও আত্মীয়কেন্দ্রিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করে দেয়।
তিনি মন্তব্য করেন,
“গণতন্ত্র যেন মামা-ভাগ্নে, ভাই-ভাতিজা বা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে না পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসার সংসদকে স্বাধীন ও কার্যকর করার আন্দোলনের সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থী মানুষের যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
তার মতে, সংসদকে কার্যকর করতে হলে সংসদ সদস্যদের যুক্তিসঙ্গত স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

ফ্রান্স থেকে অংশগ্রহণকারী মুজিবুর রহমান বলেন, “দলের ভেতরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।” তিনি পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীতন্ত্র থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং যোগ্যতা, নির্বাচন ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
লায়ন আব্দুল কাদের জিলানী বলেন,
“যে মালী নিজের বাগানে পানি দেয় না, সে অন্যের বাগানকে কীভাবে সবুজ করবে?”
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিজের সংগঠনের ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা না করে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলে সেই প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
“মুখে নয়, কাজে গণতন্ত্র প্রমাণ করতে হবে।”
ফ্রান্স থেকে অংশ নেওয়া মির্জা সুমন বলেন, যখন রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকা নেয় এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।
তবে হতাশ না হয়ে সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
লায়ন আজম খান বলেন, রাজনৈতিক দলের ওপর থেকে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রবণতা এবং তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়নের অভাব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি রাজনীতিতে অর্থ ও ব্যবসায়িক স্বার্থের অতিরিক্ত প্রভাব এবং যোগ্যতার পরিবর্তে তোষামোদ নির্ভর নেতৃত্ব তৈরির সংস্কৃতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, কর্মীদের মতামত ও যোগ্যতার মূল্যায়ন ছাড়া একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল তৈরি করা সম্ভব নয়।y
International Remittance Juddah Shonshod-এর নিউক্যাসল, ইউকে কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ মাসুম বলেন, “Philosopher Advocate A. N. M. Essa-এর প্রস্তাবিত পিরামিড গণতন্ত্র নিয়ে শুধু আলোচনা-সমালোচনা করে সভা শেষ করলে চলবে না। আমাদের বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
তিনি সেমিনার থেকে সুস্পষ্ট প্রস্তাব গ্রহণ, পিরামিড ডেমোক্রেসি নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক সংগঠন গঠনের আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসমাইল খানের বক্তব্য
ইসমাইল খান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে শেষ পর্যন্ত সরকার, রাজনৈতিক দল এবং দেশের জনগণ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার মতে, কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকলে রাজনৈতিক সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সংঘাত, প্রতিহিংসা কিংবা নেতাদের দেশত্যাগের মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি কমে আসে।
তিনি বলেন, “শক্তিশালী গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা—উভয় পক্ষের নিরাপত্তার জন্যই প্রয়োজন।”
সেমিনারের মূল পর্যবেক্ষণ
সেমিনারের আলোচনায় বক্তারা কয়েকটি বিষয়ে অভিন্ন মত প্রকাশ করেন—
১. রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
২. তৃণমূল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে নেতৃত্ব গড়ে তোলার পিরামিড ডেমোক্রেসি পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় আলোচনা প্রয়োজন।
৩. দলীয় নেতৃত্বের একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে গঠনতন্ত্র, আলোচনা ও ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।
৪. পরিবারতন্ত্র, আত্মীয়করণ, অর্থের প্রভাব এবং তোষামোদনির্ভর রাজনীতি কমিয়ে যোগ্যতা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে নেতৃত্ব মূল্যায়ন করতে হবে।
৫. জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অর্থবহ বিতর্কের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
৬. জনগণকে শুধু নির্বাচনের দিনের ভোটার হিসেবে নয়, সারাবছরের রাষ্ট্রীয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
৭. বিরোধী মত দমন নয়, আলোচনা, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ সবসময় খোলা রাখতে হবে।
৮. প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেশের উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক আলোচনায় যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্য
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, “গণতন্ত্র কাগজে লিখে রাখার বিষয় নয়। গণতন্ত্র একটি অভ্যাস, একটি সংস্কৃতি এবং একটি দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলের ভেতরে যদি আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে সেই সংস্কৃতি একদিন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়বে।”
সবশেষে তিনি সেমিনারের আলোচনা, চিন্তা এবং দেশের কল্যাণে ব্যয় করা সময়টুকু মহান আল্লাহ যেন ইবাদত হিসেবে কবুল করেন—এই দোয়া কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


More News Of This Category