বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
সত্যের সন্ধানে, এক নতুন অধ্যায়: আমার জীবন, কর্ম, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার ​নিজস্ব প্রতিবেদন, দৈনিক বাংলার সংবাদ কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক অথই নূরুল আমিন এর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত সম্মানিত পাঠকের জন‍্য দিলাম। স্টাফ রিপোর্টার : পিরামিড ডেমোক্রেসি গণতন্ত্রকে নিচ থেকে উপরে তোলার একটি রাজনৈতিক দর্শন গাইবান্ধায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭ পঞ্চগড় সীমান্তে আটক ২ রোহিঙ্গা দম্পতি, গন্তব্য ছিল ভারত! আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন স্টাফ রিপোর্টার (মনোহরগঞ্জ) কুমিল্লা বরিশালে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক, মোটরসাইকেল জব্দ এইচ.এম.তরিকুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি দৈনিক বাংলার সংবাদ সত্যের সন্ধানে, এক নতুন অধ্যায়: আমার জীবন, কর্ম, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার *কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জে হাসনাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত* বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য কনস্টেবল মোঃ আবু সালেহ এর অবসর জনিত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পিরামিড ডেমোক্রেসি গণতন্ত্রকে নিচ থেকে উপরে তোলার একটি রাজনৈতিক দর্শন

Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিরামিড ডেমোক্রেসি
গণতন্ত্রকে নিচ থেকে উপরে তোলার একটি রাজনৈতিক দর্শন
পিরামিড ডেমোক্রেসি চর্চা আন্দোলনের জনক
Philosopher Deshbandhu Advocate A. N. M. Essa
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু কে ক্ষমতায় যাবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, ক্ষমতা কোথা থেকে আসবে এবং কার কাছে জবাবদিহি করবে।
আমার প্রস্তাবিত Pyramid Democracy বা পিরামিড ডেমোক্রেসি দর্শনের মূল কথা হলো, রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি থাকবে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নেতৃত্ব তৈরি হবে নিচ থেকে, ধাপে ধাপে ওপরে উঠবে। কোনো ব্যক্তি বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইচ্ছামতো নিচের স্তরে নেতা চাপিয়ে দেবে না।
একটি পিরামিড যেমন নিচের প্রশস্ত ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও জনগণের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো উচিত।
জনগণ হবে ভিত্তি, নেতৃত্ব হবে তার চূড়া।
চূড়া কখনো ভিত্তি তৈরি করবে না; ভিত্তিই চূড়াকে বহন করবে।
এটাই পিরামিড ডেমোক্রেসির মূল দর্শন।
গণতন্ত্রের সমস্যাটা কোথায়?
আমাদের দেশে প্রায়ই বলা হয়, নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অংশমাত্র।
একটি দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে, সংসদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক দল থাকতে পারে; কিন্তু রাজনৈতিক দলের ভেতরে যদি সাধারণ সদস্যের ভোটের মূল্য না থাকে, নেতা যদি ওপর থেকে মনোনীত হন, প্রার্থী যদি অর্থ, প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে নির্বাচিত হন, তাহলে সেই ব্যবস্থা পূর্ণ গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
কারণ রাষ্ট্রের গণতন্ত্র রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়।
অগণতান্ত্রিক দল দিয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা কঠিন।
যে দলের একজন সাধারণ সদস্য নিজের ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা স্থানীয় কমিটির নেতা বেছে নিতে পারেন না, সেই সদস্য জাতীয় রাজনীতিতে কতটুকু গণতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন, এই প্রশ্ন আমাদের করতে হবে।
পিরামিড ডেমোক্রেসির কাঠামো
পিরামিড ডেমোক্রেসিতে নেতৃত্বের ধাপ হতে পারে এভাবে:
জনগণ ও সাধারণ সদস্য

ওয়ার্ড বা স্থানীয় ইউনিট

ইউনিয়ন বা পৌরসভা

উপজেলা বা থানা

জেলা

বিভাগ বা অঞ্চল

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব
প্রতিটি ধাপে নেতৃত্বের বৈধতা আসবে নিচের স্তর থেকে।
অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে ফোন করে বলা হবে না, অমুক ব্যক্তি সভাপতি এবং অমুক ব্যক্তি সাধারণ সম্পাদক।
বরং স্থানীয় সদস্যরা নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাদের মধ্য থেকে পরবর্তী স্তরের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।
এই ব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি হবে:
No nomination without participation.
No leadership without accountability.
অর্থাৎ অংশগ্রহণ ছাড়া মনোনয়ন নয় এবং জবাবদিহি ছাড়া নেতৃত্ব নয়।
বর্তমান উল্টো পিরামিডের সমস্যা
অনেক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বাস্তবে আমরা উল্টো একটি পিরামিড দেখতে পাই।
সেখানে ওপরের একজন বা কয়েকজন ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নেন কে জেলা নেতা হবেন, কে উপজেলা নেতা হবেন, কে সংসদ সদস্যের প্রার্থী হবেন, এমনকি কে স্থানীয় কমিটির সভাপতি হবেন।
তখন কাঠামো দাঁড়ায়:
কেন্দ্রীয় নেতা

মনোনীত নেতা

স্থানীয় কমিটি

কর্মী

সাধারণ জনগণ
এখানে জনগণ নিচে থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস আর জনগণ নয়।
ক্ষমতার উৎস হয়ে যায় ওপরের নেতৃত্ব।
ফলে নেতা ভাবেন:
আমাকে জনগণ বানায়নি; আমাকে কেন্দ্র বানিয়েছে।
এই চিন্তাটিই গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
কারণ যার কাছে একজন নেতা তার পদ পাওয়ার জন্য ঋণী, শেষ পর্যন্ত তার কাছেই তিনি বেশি জবাবদিহি করবেন।
পিরামিড ডেমোক্রেসিতে আমরা সেই সম্পর্ক উল্টে দিতে চাই।
নেতা বলবেন:
আমাকে জনগণ নির্বাচিত করেছে। তাই আমার প্রথম জবাবদিহি জনগণের কাছে।
একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরা যাক, একটি নির্বাচনী এলাকায় কোনো রাজনৈতিক দলের ২০,০০০ নিবন্ধিত সদস্য রয়েছেন।
বর্তমান পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় কমিটি একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিল।
স্থানীয় কর্মীরা হয়তো তাকে চান না। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত বলে সবাইকে মেনে নিতে হচ্ছে।
পিরামিড ডেমোক্রেসিতে প্রথমে স্থানীয় সদস্যরা কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী বেছে নেবেন।
তারপর একটি স্বচ্ছ অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
ফলে সেই প্রার্থী জানবেন:
তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু কেন্দ্রীয় নেতার হাতে নয়, স্থানীয় সদস্যদের হাতেও রয়েছে।
এতে দুটি পরিবর্তন ঘটবে।
প্রথমত, নেতা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও স্থানীয় মতামত উপেক্ষা করতে পারবে না।
পিরামিড ডেমোক্রেসি এবং জবাবদিহি
এই দর্শনের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো জবাবদিহি।
যে ব্যক্তি নিচের মানুষের ভোটে ওপরে উঠেছেন, তিনি জানবেন যে পরবর্তী নির্বাচনে সেই মানুষগুলোই তাকে নামিয়ে দিতে পারেন।
এটাই গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা যায় vertical accountability বা ঊর্ধ্বমুখী জবাবদিহি।
একজন জনপ্রতিনিধি শুধু সংবিধান কিংবা আদালতের কাছে নয়, রাজনৈতিকভাবে ভোটারের কাছেও দায়বদ্ধ থাকবেন।
পিরামিড ডেমোক্রেসিতে সেই জবাবদিহি রাজনৈতিক দলের ভেতর থেকেই শুরু হবে।
কালো টাকার প্রভাব কমাতে পারে
রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব একটি বড় সমস্যা।
যদি কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে প্রভাবিত করলেই কোনো ব্যক্তি মনোনয়ন বা পদ পেয়ে যেতে পারেন, তাহলে অর্থশক্তি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ বাড়ে।
কিন্তু একজন ব্যক্তিকে যদি হাজার হাজার স্থানীয় সদস্যের সমর্থন অর্জন করতে হয়, তাহলে শুধু একজন বা দুইজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করলেই হবে না।
পিরামিড ডেমোক্রেসি অর্থের প্রভাব সম্পূর্ণ দূর করে দেবে এমন দাবি করা ঠিক হবে না।
তবে এটি ক্ষমতা কেনাবেচার দরজা সংকুচিত করতে পারে।
কারণ সিদ্ধান্ত যত বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, একজন ব্যক্তির পক্ষে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করা তত কঠিন হয়।
পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির বিকল্প
পিরামিড ডেমোক্রেসি কোনো পরিবার কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দর্শন নয়।
কোনো পরিবারের সদস্য যোগ্য হলে তিনি অবশ্যই রাজনীতি করবেন।
কিন্তু তার যোগ্যতার বিচার করবেন জনগণ।
তার পরিচয় হবে না:
“তিনি অমুক নেতার ছেলে বা মেয়ে।”
তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হবে:
“জনগণ তাকে নির্বাচিত করেছে।”
এখানে বংশ নয়, ভোট হবে বৈধতার ভিত্তি।
পরিচয় নয়, কর্ম হবে নেতৃত্বের ভিত্তি।
রাজনৈতিক দলের ভেতরে গণতন্ত্র কেন জরুরি?
রাজনৈতিক দল হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ বিদ্যালয়।
যেখানে একজন মানুষ রাজনৈতিক দলেই ভিন্নমত সহ্য করতে শেখেননি, তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে ভিন্নমত কীভাবে সহ্য করবেন?
যে দল নিজের কমিটির নির্বাচন স্বচ্ছভাবে করতে পারে না, রাষ্ট্রীয় নির্বাচন পরিচালনার সময় তাদের কাছে স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন হতে পারে।
যে নেতা নিজের দলের সাধারণ কর্মীর প্রশ্ন গ্রহণ করতে পারেন না, রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে সাংবাদিক, নাগরিক কিংবা বিরোধী দলের প্রশ্ন কতটা গ্রহণ করবেন?
তাই রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত দলীয় গণতন্ত্র থেকে।
পিরামিড ডেমোক্রেসির পাঁচটি স্তম্ভ
আমার মতে এই দর্শনের পাঁচটি প্রধান ভিত্তি থাকা উচিত।
প্রথমত, নির্বাচন।
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভব হলে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গোপন ব্যালট।
সদস্য যেন ভয় বা চাপ ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
তৃতীয়ত, নির্দিষ্ট মেয়াদ।
কোনো পদ আজীবনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না।
চতুর্থত, আর্থিক স্বচ্ছতা।
দলের আয়, ব্যয় ও রাজনৈতিক অর্থায়নের হিসাব সদস্যদের জানার সুযোগ থাকতে হবে।
পঞ্চমত, নেতৃত্বের জবাবদিহি।
নেতা যদি ব্যর্থ হন, সদস্যরা যেন গণতান্ত্রিকভাবে তাকে পরিবর্তন করতে পারেন।
পিরামিড ডেমোক্রেসি ও সংসদ
একজন সংসদ সদস্যের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা।
কিন্তু যদি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে দলীয় কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে, তাহলে জনগণ ও কেন্দ্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে তিনি কার কথা শুনবেন?
এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
আমি দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ও কার্যকর সংসদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছি।
আমার দৃষ্টিতে সংসদ সদস্যকে দলীয় নীতি মানতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে নিজের বিবেক, নির্বাচনী এলাকার জনগণ এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
অন্যথায় সংসদ সদস্য কেবল হাত তুলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুমোদনকারী ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পিরামিড ডেমোক্রেসি সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ভিত্তিকে জনগণের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে পারে।
প্রবাসীদের ভূমিকা
ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের এখানে একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
আমরা এমন সমাজে বসবাস করছি যেখানে স্থানীয় কাউন্সিল থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নির্বাচনের বিভিন্ন স্তর দেখতে পাই।
রাজনৈতিক নেতাকে প্রশ্ন করা অপরাধ নয়।
ক্ষমতা পরিবর্তনকে রাষ্ট্রের পতন হিসেবে দেখা হয় না।
নির্বাচনে একজন হারলে অন্যজন দায়িত্ব নেন।
আমরা যদি এই সংস্কৃতি নিজের বাংলাদেশের সংগঠনগুলোর ভেতর প্রয়োগ করতে না পারি, তাহলে বিদেশে গণতন্ত্র দেখে আমরা কী শিখলাম?
প্রবাসী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে আমি পিরামিড ডেমোক্রেসির পরীক্ষাগার হিসেবে দেখতে চাই।
সেখান থেকেই শুরু হোক:
গোপন ব্যালট, নিয়মিত নির্বাচন, আর্থিক স্বচ্ছতা, নেতৃত্বের মেয়াদ, নিচ থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
দেশবন্ধু দর্শন ও পিরামিড ডেমোক্রেসি
আমি দেশকে ভালোবাসি বলেই নিজেকে দেশবন্ধু মনে করি।
কিন্তু দেশবন্ধু কোনো একজন ব্যক্তির একচেটিয়া পরিচয় হওয়া উচিত নয়।
যিনি দেশকে ভালোবাসেন, দেশের মানুষের অধিকারকে ভালোবাসেন এবং দেশের ন্যায়বিচার চান, তিনিও দেশবন্ধু।
দেশপ্রেম মানে নিজের দলের সবকিছুকে সমর্থন করা নয়।
নিজের দলের অন্যায়কে অন্যায় এবং প্রতিপক্ষের ভালো কাজকে ভালো বলার সাহসও দেশপ্রেমের অংশ।
পিরামিড ডেমোক্রেসির ভিত্তিও এখানেই।
ব্যক্তির চেয়ে নীতি বড়।
নেতার চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়।
দলের চেয়ে দেশ বড়।
আর রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ।
পিরামিড ডেমোক্রেসির একটি সূত্র
এই দর্শনকে একটি সহজ সূত্রে প্রকাশ করা যায়:
People → Members → Local Leadership → Regional Leadership → National Leadership → Government
কিন্তু ক্ষমতার জবাবদিহি চলবে বিপরীত দিকে:
Government → National Leadership → Regional Leadership → Local Leadership → Members → People
অর্থাৎ ক্ষমতা উঠবে নিচ থেকে ওপরে।
আর জবাবদিহি নামবে ওপর থেকে নিচে।
এই দুই প্রবাহ মিলেই পূর্ণ পিরামিড ডেমোক্রেসি।
মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐক্য
বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজন্ম দেশের জন্য ভূমিকা রেখেছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত।
জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার একটি অংশকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
আর প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বছরের পর বছর দেশের অর্থনীতি ও অসংখ্য পরিবারের জীবনে অবদান রেখে চলেছেন।
তাদের ইতিহাস এবং ভূমিকা এক নয়।
কিন্তু একটি জায়গায় সবাই একত্রিত হতে পারেন:
একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।
এই ঐক্য যদি দলীয় স্বার্থের ওপরে দেশের স্বার্থকে স্থান দেয়, তাহলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
পিরামিড ডেমোক্রেসি কোনো একদিনের বিপ্লব নয়
আমি এটিকে শুধু একটি নির্বাচন পদ্ধতি হিসেবে দেখি না।
এটি একটি সংস্কৃতি পরিবর্তনের আন্দোলন।
একদিনে এটি প্রতিষ্ঠিত হবে না।
আজ একটি প্রবাসী সংগঠনে গোপন ব্যালট চালু হলো।
আগামীকাল একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কমিটিতে নির্বাচন হলো।
তারপর সংসদীয় প্রার্থী নির্বাচনে সদস্যদের মতামত গ্রহণ করা হলো।
ধীরে ধীরে জনগণ বুঝতে শুরু করবে:
নেতা আমার ওপর বসানো কোনো শাসক নয়। নেতা আমার প্রতিনিধি।
এই চিন্তার পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন।
উপসংহার
একটি পিরামিড যদি ওপর থেকে নির্মাণ করতে যাওয়া হয়, সেটি দাঁড়াবে না।
প্রথমে ভিত্তি তৈরি করতে হয়।
রাষ্ট্রও একই নিয়মে চলে।
গণতন্ত্রের ভিত্তি যদি জনগণের মধ্যে শক্ত না হয়, শুধু ওপরের প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
তাই আমার আহ্বান:
গণতন্ত্রকে সংসদ থেকে জনগণের কাছে নামাবেন না; জনগণের কাছ থেকে সংসদ পর্যন্ত তুলুন।
সাধারণ কর্মীকে ক্ষমতা দিন।
স্থানীয় সদস্যকে ভোটের অধিকার দিন।
নেতৃত্বকে প্রতিযোগিতার মধ্যে আনুন।
কালো টাকার প্রভাব কমান।
নেতাকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করুন।
এবং এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলুন যেখানে কেউ বলতে পারবেন না:
“আমি নেতা, কারণ ওপর থেকে আমাকে বসানো হয়েছে।”
বরং তিনি গর্বের সঙ্গে বলবেন:
“আমি নেতা, কারণ জনগণ আমাকে বেছে নিয়েছে।”
এটাই Pyramid Democracy।
এটাই Upward Democracy।
এবং আমার বিশ্বাস, এই দর্শনের চর্চা রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ভেতর থেকে শুরু হলে একদিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের ভিতও অনেক শক্তিশালী হবে।
মূলমন্ত্র
ক্ষমতা নিচ থেকে ওপরে উঠবে,
জবাবদিহি ওপর থেকে নিচে নামবে,
আর জনগণ থাকবে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে।
— Philosopher Deshbandhu Advocate A. N. M. Essa
পিরামিড ডেমোক্রেসি চর্চা আন্দোলনের জনক.

M A Rouf. (Qater)
rofesroufnasrin@gmail.com 00974 66958035


More News Of This Category