দইখাওয়া টেকনিক্যাল কলেজের পেছনে মাদকের আসর? সালামকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ, ভিডিও ভাইরালের পরও থামেনি কারবার।
লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া এলাকায় মাদক সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সালাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দইখাওয়া টেকনিক্যাল কলেজের পেছনে তার বাড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের খুচরা ও পাইকারি বেচাকেনা চলে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সালামের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের দাবি, একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না থাকলেও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বর্তমানে তিনি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন তরুণ জড়িত এবং তাদের বিভিন্নভাবে অর্থ দিয়ে মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দইখাওয়া টেকনিক্যাল কলেজের আশপাশে বসে নেশার আসর—এমন অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও স্থানীয় তরুণদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের নির্জনতাকে কাজে লাগিয়ে দইখাওয়া টেকনিক্যাল কলেজের পেছনের এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। সেখানে নিয়মিত নেশার আসর বসে বলে দাবি তাদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় অপরিচিত তরুণদের আনাগোনা দেখা যায় এবং অনেকেই সেখানে মাদক সেবনে জড়ো হয়। এতে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নানা ধরনের চাপের আশঙ্কায় অনেকেই নীরব থাকেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী আরও দাবি করেন, কিছুদিন আগে সালামের মাদক বেচাকেনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও ভাইরালের পরও তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চলতে পারে?
স্থানীয়দের দাবি, দইখাওয়া এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদন্ত ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের আড্ডা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।