রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
Headline :
মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময় আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডে তীব্র দুর্গন্ধ, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ* রৌনাক খান (সরাইল উপজেলা প্রতিনিধি বালিয়াকান্দিতে স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা গংগাচড়ায় সোনার দামে বালু, থমকে গেছে উন্নয়ন, উপজেলা প্রশাসন নিরব। বিপাকে কৃষক ও ঠিকাদার এম লিখন সরকার । গংগাচড়া (রংপুর প্রতিনিধি) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা ঢাকায় নিখোঁজ চাঁদপুরের কলেজছাত্রী নাজমা আক্তার, রহস্যময় বার্তায় দুর্ঘটনার দাবি জেমস আব্দুর রহিম রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক আদিতমারীতে পুকুরে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু, রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সফল অভিযান। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মিরপুরে জরুরি সভা বিশেষ প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলার সংবাদ: গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি। গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গংগাচড়ায় সোনার দামে বালু, থমকে গেছে উন্নয়ন, উপজেলা প্রশাসন নিরব। বিপাকে কৃষক ও ঠিকাদার এম লিখন সরকার । গংগাচড়া (রংপুর প্রতিনিধি)

Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

গংগাচড়ায় সোনার দামে বালু, থমকে গেছে উন্নয়ন, উপজেলা প্রশাসন নিরব। বিপাকে কৃষক ও ঠিকাদার

এম লিখন সরকার ।
গংগাচড়া (রংপুর প্রতিনিধি)

তারিখ: ৩০- ০৮ -২৬ ইং

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলায় ভিটি বালু ও কাস্টিং বালুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ পয়েন্ট না থাকায় স্থানীয় বাজারে বালুর দাম এখন আকাশচুম্বী। ফলে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ, অন্যদিকে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত কৃষকেরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই (বাড়ি) তৈরি করতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।

​স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত দুই বছর আগের সরকারি প্রাক্কলন (স্টিমেট) অনুযায়ী বর্তমান সময়েও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বালুর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এই বাড়তি খরচের কারণে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঠিকাদারদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে কাজের গতির ওপর।

​সরেজমিনে অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে গংগাচড়ায় বালুর দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দুই বছর আগে যেখানে এক ট্রলি ভিটি বালু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তা কোনোভাবে সংগ্রহ করতে ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। একইভাবে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকার কাস্টিং বালুর দাম বর্তমান বাজারে ঠেকেছে ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকায়।

​ঠিকাদারি পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, প্রশাসন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জমিতে পুকুর খনন করে বালু তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমনকি কোনো ব্যবসায়ী বা ঠিকাদার বালু পরিবহন করতে গেলেই গাড়ি আটকে ৭০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হচ্ছে। বালু ব্যবসায়ীদের দাবি, “আমরা কোথাও বালু উত্তোলন করতে পারছি না। প্রশাসন গাড়ি ধরলেই লাখ টাকা জরিমানা করছে, ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

​এদিকে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ কৃষিজীবী মানুষ। সারাজীবনের জমানো পুঁজিতে একটা পাকা বাড়ি করার স্বপ্ন দেখলেও বালি সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে বালুর চরম অপ্রাপ্যতা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসন বালু পরিবহন ও উত্তোলনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করলেও, এর বিকল্প ব্যবস্থা বা সরকারিভাবে কোনো বৈধ ‘বালু পয়েন্ট’ বা বালুমহাল ইজারা দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

একদিকে বালুর অভাবে সরকারি কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম ও ঠিকাদারদের লোকসান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি—এত বড় একটি সংকটের দিকে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যকর নজরদারি নেই।

উপজেলায় চলমান সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুততম সময়ে সরকারি উদ্যোগে বালু পয়েন্টের ব্যবস্থা করা এবং বাজার স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন গংগাচড়ার ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগ

বালুর তীব্র সংকটের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি দপ্তর অবগত আছে কিনা, এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জয়া সান্যাল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা জানি, আমরাই ভুক্তভোগী। এখানে আমার দপ্তরের কোন হাত নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে
এসিল্যান্ড ও ইউএনও মহোদয়ের দেখার বিষয়। ওনারা বালু মহল দেখিয়ে দেবে আমরা সেখান থেকে বালু নিব। আমাদের কিছু করার নাই।

সহকারী কমিশনার( ভূমি) মো.হামিদুল ইসলাম এর কাছে বালু সংকট মোকাবেলায় সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালু মহল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন এই কমিটির প্রধান ইউএনও স্যার। ওনার বক্তব্যই আসল। তারপরেও আমি বলি বালুর সাথে যেহেতু মানুষের ওতপ্রোত ভাবে সম্পর্ক আছে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বালু মহল ঘোষণার উদ্দেশ্যে বালু মহল সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুতপূর্বক আমরা এটা অফিসে প্রেরণ করেছি। বর্তমানে এটি আমার কার্যালয়ে নেই। খুব সম্ভবত জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে রয়েছে, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বিভাগীয় কমিশনার। তারা যদি অনুমোদন দেয় তাহলে আমরা বৈধভাবে বালুমহল ঘোষণা করবো,এবং সে ক্ষেত্রে সরকার ও রাজস্ব আদায় করতে পারবে, এবং এখানে যে স্থানীয়ভাবে বালুর তীব্র সংকট যতটুকু চাহিদা রয়েছে তা পূরণ হবে।

বালু সংকটের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: জেসমিন আক্তার বলেন, বালুছাড়া আমাদের উন্নয়নমূলক কোন কাজ করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের বালু মহলের জন্য চিঠি পাঠানো আছে, এখন পর্যন্ত কোন অনুমোদন পাইনি। আমরা নিজে থেকে বালুমহল ঘোষণা দিতে পারিনা এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা আমি কামনা করি।


More News Of This Category