নীলফামারীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: পরিবারের দাবি ‘হত্যা’ থানায় মামলা।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২৮ আগস্ট, ২০২৬
যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নির্মম এই ঘটনার পর হত্যার আলামত গোপন করতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অপচেষ্টাও চালানো হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ নিহতের বাবা চারজনকে অভিযুক্ত করে নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে নীলফামারী শহরের কলেজপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে নাছরিন নাহারের সঙ্গে বিয়ে হয় সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের। নাছরিন ছিলেন মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের সময় মেয়ের সুখে-শান্তির কথা চিন্তা করে মান্নানকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেয় নাছরিনের পরিবার।
তবে বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই অতিরিক্ত আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। বিভিন্ন সময় এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস-বৈঠক হলেও নির্যাতন থামেনি।
এজাহারের বিবরণে জানা যায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে আবারও তিন লাখ টাকার জন্য নাছরিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। নাছরিন এর তীব্র প্রতিবাদ করলে স্বামী আব্দুল মান্নান, ভাসুর দেলোয়ার হোসেন, মান্নানের প্রথম পক্ষের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং ছেলের স্ত্রী আরিফা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হন। তাকে বেধড়ক মারধরের পর একপর্যায়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ লালপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে নাছরিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শোকে ভেঙে পড়া নিহতের বাবা আব্দুল জব্বার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্যই ওরা আমার মেয়েকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছে। এরপর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমি আমার মেয়ের হত্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত নাছরিনের বাবা চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।