নীলফামারীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৫তম বিসিএস কৃষি ক্যাডার তরুণ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার মৃত্যু”
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
১৯ আগস্ট, ২০২৬
নীলফামারীর ডোমারে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে। নিহত তরুণের নাম মীর তানভীর আহমেদ (২৯)। তিনি বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ কেন্দ্রটিতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি চূড়ান্তভাবে চাকরিতে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন।
গত সোমবার রাত সাড় ৮টার দিকে ডোমার উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কাটা পড়েন তানভীর। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় এলাকাবাসী মরদেহটি শনাক্ত করতে না পারায় সিআইডি (CID) ও পিবিআই (PBI)-এর সহায়তায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
নিহত তানভীর আহমেদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ডিগ্রি কলেজ শিক্ষক মো. বজলুর রশিদের ছোট ছেলে। তানভীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দিনাজপুরের গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুনে তিনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ কেন্দ্রে বদলি হন।
তানভীরের বড় ভাই মীর সফিকুল ইসলাম শোকাচ্ছন্ন কণ্ঠে বলেন, “তানভীর ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে যোগদানের অপেক্ষায় ছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের পুরো পরিবারের সব আশার আলো নিভে গেল। বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবা করা নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটল, তা আমাদের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার শফিকুর রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে পরিচয় নিশ্চিত করায় লাশের পরিচয় উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।