মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
Headline :
প্রতিশোধ নয়, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই শেখ হাসিনা ফিরবেন – বাহাউদ্দিন নাছিম সাদা মন বয়েজ ক্লাব একবছর পুতিঁ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। নিউইয়র্কের কুইন্স লাইব্রেরিতে কবি শহীদ কাদরী’র উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হাকিকুল ইসলাম খোকন Liam, Queens Arson Survivor, Celebrates Another Birthday: A Remarkable Journey of Courage and Hope কুইন্সে অগ্নিসংযোগে বেঁচে যাওয়া লিয়ামের আরেক জন্মদিন: সাহস ও আশার অনন্য গল্প নবীগঞ্জের দুই ইউনিয়নের সর্ব সাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ! বিপাকে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ- অবশেষে উন্মুক্ত রাখার আশ্বাস রাজবিলার শিলক খাল রক্ষা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে মানববন্ধন মুহাম্মদ আকাশ বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: *ধামরাই উপজেলা আনসার-ভিডিপির মানবিক সহায়তা: এলাকাবাসী ও রোগীদের পাশে* পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আমিনুল হক বুলবুল এর প্রয়াণ হাকিকুল ইসলাম খোকন,মোঃ নাসির,বাপসনিউজ:

নিউইয়র্কের কুইন্স লাইব্রেরিতে কবি শহীদ কাদরী’র উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হাকিকুল ইসলাম খোকন

Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

নিউইয়র্কের কুইন্স লাইব্রেরিতে কবি শহীদ কাদরী’র উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ শহীদ কাদরী স্মরণে লেখকের অঙ্গন: পর্ব ২৮ নিউইয়র্কে ‘কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘লেখকের অঙ্গন-এর ২৮তম গ্রন্থালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬,নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক ও পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বারের পর্বটি উৎসর্গ করা হয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরীর স্মৃতির প্রতি।
উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে (১৯৪১ সালে ১৪ আগস্ট ) কবি শহীদ কাদরীর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।খবর আইবিএননিউজ।
অনুষ্ঠানে শহীদ কাদরীর কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, জীবন, নির্বাসন, ব্যক্তিত্ব, স্মৃতি ও সাহিত্য ভাবনাসহ তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের নানা দিক নিয়ে কবি, সাহিত্যেক ও গবেষকরা আলোচনা করেন। আলোচকদের বিশ্লেষণ ও স্মৃতিচারণে শহীদ কাদরীর সাহিত্যেক প্রতিভার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তি জীবনের নানা অজানা বিষয় ও উঠে আসে। প্রাণবন্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ এসব আলোচনা থেকে উপস্থিত সকলেই কবি শহীদ কাদরী সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ পান।
আরিফ মাহমুদ শৈবাল—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর জীবনের কিছু কম আলোচিত ও অন্তরঙ্গ দিক তুলে ধরেন। তিনি কবির ব্যক্তিত্ব, জীবনবোধ ও সাহিত্যচিন্তার নানা অনুষঙ্গের প্রতি আলোকপাত করেন। তাঁর মতে, শহীদ কাদরীকে শুধু তাঁর বিখ্যাত কবিতার মধ্য দিয়ে দেখলে কবির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায় না। তাঁর জীবন ও সৃষ্টির অন্তরালে থাকা অনুভূতি, নিঃসঙ্গতা ও আত্মজিজ্ঞাসাও কবিকে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আলোচনা শহীদ কাদরীর পরিচিত সত্তার আড়ালে থাকা এক গভীর ও সংবেদনশীল কবিকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ করে দেয়।
কাউসারী মালেক রোজী—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর মননশীলতা ও স্মৃতির নানা অধ্যায় তুলে ধরেন। তিনি ব্যক্তিগত স্মৃতি, কবির চিন্তাভাবনা ও সাহিত্যিক মানসের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যে শহীদ কাদরীর মানবিকতা, রসবোধ ও গভীর জীবনদৃষ্টির নানা চিত্র ফুটে ওঠে। তিনি শহীদ কাদরীর দুটি গদ্যের উপর আলোকোত করেন। তাঁর আলোচনা উপস্থিত শ্রোতাদের কাছে শহীদ কাদরীকে আরও কাছের পরিচিত করে তোলে।
মহিবুর রহমান—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরী মূলত কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত হলেও তাঁর সাহিত্য চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অনুবাদ। কবিতার পাশাপাশি তিনি বিদেশি কবিতা, গদ্য ও নাটক বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে বাংলা ভাষার পাঠকদের সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করে গেছেন। তাঁর অনুবাদ ও ভাষার রূপান্তরে বিশ্বসাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের পরিচয় পাওয়া যায়। শহীদ কাদরীর অমৃতের সন্তান নাটকসহ অনুবাদের নানাদিক বিশ্লেষণ শহীদ কাদরীর সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পাঠপরিসরে পরিচিত করার ক্ষেত্রে অনুবাদের গুরুত্বকে বিশেষভাবে সামনে নিয়ে আসে।
সুরীত বড়ুয়া— শহীদ কাদরীর কবিতায় শব্দচয়ন ও শব্দের নান্দনিক বিন্যাস নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি দেখান, কবি কীভাবে অত্যন্ত সচেতনভাবে শব্দ নির্বাচন করে কবিতার আবহ, অর্থ ও সৌন্দর্য নির্মাণ করেছেন। তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর ভাষার আধুনিকতা, সংযম ও ব্যতিক্রমী প্রকাশভঙ্গির বিভিন্ন দিক উঠে আসে। শব্দের অবস্থান ও বিন্যাস কীভাবে কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থকে আরও গভীর করে তোলে, তিনি তারও ব্যাখ্যা দেন। তাঁর বিশ্লেষণ শহীদ কাদরীর কবিতার শিল্পরূপ ও ভাষাশৈলী বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
আহমাদ মাযহার—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর গদ্যরচনার বিভিন্ন দিক ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি কবির গদ্যে চিন্তার গভীরতা, ভাষার স্বাতন্ত্র্য এবং জীবনকে দেখার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আলোকপাত করেন। কবি হিসেবে শহীদ কাদরীর পরিচিতির আড়ালে তাঁর গদ্যসাহিত্যের যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তিনি তা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে শহীদ কাদরীর গদ্যের ভাষা, বিষয়বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার নানা দিক নতুনভাবে আলোচিত হয়। ফলে শ্রোতারা কবির সাহিত্যিক সত্তার একটি অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত অধ্যায় সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
এ বি এম সালেহউদ্দীন—শহীদ কাদরীর দুর্লভ সাক্ষাৎকার ও কথোপকথনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কবির ব্যক্তিজীবন, সাহিত্যভাবনা ও সমকাল সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এসব সাক্ষাৎকারে কবির যে চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়, তিনি তা গুরুত্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর এমন কিছু বক্তব্য ও ভাবনা সামনে আসে, যা সাধারণ পাঠকের কাছে তুলনামূলকভাবে অজানা।
প্রকাশ থাকে যে, কবি শহীদ কাদরীর সাহিত্যিক জীবনের নানা বিষয়ে বাংলাদেশ ও নিউইয়র্কের বিশিষ্টজনদের ১৫ টি সাক্ষাৎকার নিয়ে ২০১৪ সালে ঢাকার কবি প্রকাশনী থেকে ( সাক্ষাৎকার সংগ্রহ নামে একটি সমৃদ্ধ সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয় । ফলে,দুর্লভ সেইসব সাক্ষাৎকারগুলো কবির জীবন ও সাহিত্যকে বোঝার মূল্যবান দলিল হিসেবে নতুন গুরুত্ব লাভ করে ।
এবিএম সালেহ উদ্দীন বলেন, এইসব দুর্লভ সাক্ষাৎকার অবশ্যই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের অংশ হিসেবে টিকে থাকবে।
মনিজা রহমান—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর জীবনে নির্বাসনের প্রভাব ও এর বহুমাত্রিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি দেখান, দেশ ও স্বদেশ থেকে দূরে থাকার অভিজ্ঞতা কবির মনোজগৎ ও সৃষ্টিশীলতাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে। নির্বাসনের নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি, বিচ্ছিন্নতা ও স্বদেশের প্রতি আকর্ষণ তাঁর আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে। কবির সাহিত্যকর্মে এই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন কীভাবে ঘটেছে, তিনি তারও ব্যাখ্যা দেন। তাঁর আলোচনা শহীদ কাদরীর কবিসত্তাকে নির্বাসনের অভিজ্ঞতার আলোকে নতুনভাবে অনুধাবনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
হাসান ফেরদৌস—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর পরিচিত ও অজানা—উভয় সত্তাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি কবির সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন ও চিন্তার বিভিন্ন অনালোচিত দিকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্যে কখনো পরিচিত কবিকে নতুন আলোয় দেখা যায়, আবার কখনো অচেনা এক শহীদ কাদরীর সন্ধান মেলে। স্মৃতি, সাহিত্য ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ মিলিয়ে তিনি কবির একটি বহুমাত্রিক প্রতিকৃতি তুলে ধরেন। তাঁর আলোচনা শ্রোতাদের মনে শহীদ কাদরী সম্পর্কে নতুন কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা তৈরি করে।
বদরুন নাহার—তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর নিঃসঙ্গতা, নির্জনতা ও অন্তর্জগতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি দেখান, কবির সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে নিভৃত জীবন ও একাকিত্বের অনুভূতির একটি গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর আলোচনায় শহীদ কাদরীর সংবেদনশীল মন, আত্মমগ্নতা ও জীবনবোধের নানা দিক ফুটে ওঠে। নির্জনতার মধ্যেও কীভাবে কবি তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে সমৃদ্ধ করেছেন, তিনি সে বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে
ব্যাখ্যা তুলে ধরেন ।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে বিশদ আলোচনায় কবির উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই (১৯৭৮), আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯), অমৃতের সন্তান, আবর্ত, গদ্য, সাক্ষাৎকার স্থান লাভ করে।
বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। আলোচনার পাশাপাশি শহীদ কাদরীর সাহিত্য ও জীবন নিয়ে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে আগ্রহ ও ভাবনার আদান-প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের পাশাপাশি রানু ফেরদৌস, অভিক সোবহান, রাজিয়া নাজমী, মমতাজ বেগম সুমি, মোশাররফ হোসেন, বেনজির শিকদার, নাসির শিকদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। সবশেষে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও পরিচালক ‘নীরা কাদরী’ উপস্থিত সবাইকে এবং কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির ম্যানেজার ‘শান্তে গেন্স’সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পরিশেষে অনুষ্ঠানের পরিচালক ‘নীরা কাদরী’ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


More News Of This Category