ঢাকা প্রতিনিধি আরমান খান অপু : কথিত ‘আয়নাঘর’ ও টিএফআই সেলের আলামত ধ্বংস, নির্যাতনের সরঞ্জাম অপসারণ এবং ঘটনাস্থলের চিহ্ন মুছে ফেলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।
তিনি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, টিএফআই সেলের ভেতরে ব্যবহৃত নির্যাতনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, লোহার কাঠামো, অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত কেটে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলামতের একটি অংশ র্যাব সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি লেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা একজন সাক্ষীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই লেকে ডুবুরি নামিয়ে কিছু আলামত উদ্ধার করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কথিত ‘আয়নাঘরের’ গোপন কক্ষগুলো আড়াল করতে দেয়াল তুলে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সেলের লোহার গ্রিল ও স্টিলের দরজা কেটে সরিয়ে ফেলা এবং বিভিন্ন কক্ষে পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ও আবর্জনা রেখে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে গোপন দরজা ভেঙে কথিত সেলগুলো শনাক্ত করে এবং সেই সময়ের বিভিন্ন ভিডিওচিত্রও প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, “যদি সত্যিই নির্যাতন, গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আলামত নষ্টের মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সেসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি অভিযোগ করেন, অন্যায়, জুলুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আড়াল করার যে কোনো প্রচেষ্টা ইতিহাসের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।