তানুরার কাছে হেলিকপ্টার দু /র্ঘটনায় নিহত সৌদি আরামকোর ১৪ জন কর্মীর মধ্যে অন্যতম মোয়াথ আল-জাহরানি তার বিয়ের মাত্র ৫০ দিন আগে জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মো লুৎফুর রহমান রাকিব আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি
দুর্ঘটনার আগের রাতেই পরিবার ও বন্ধুদের কাছে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। যে অ্যাপার্টমেন্টে তিনি ও তার হবু স্ত্রী একসঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেটিও প্রায় প্রস্তুত ছিল এবং প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় যত্ন সহকারে সাজানো হয়েছিল।
তার বিয়ের অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য একত্রিত হওয়ার পরিবর্তে, সোমবার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীরা দাম্মামের আল ফুরকান মসজিদে আল-জাহরানি এবং দু /র্ঘটনায় নিহত অন্য ৬ জনের জন্য জানাজার নামাজ আদায় করতে সমবেত হন।
নামাজে উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আমির প্রিন্স সৌদ বিন নায়েফ; জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান; সৌদি আরামকোর চেয়ারম্যান ইয়াসির আল-রুমাইয়ান; এবং কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও সিইও আমিন নাসের।
আল ইখবারিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, মোয়াথের চাচা সামির আল-বুশাইরি তার ভাতিজাকে স্মরণ করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন।
তিনি বলেন, “মোয়াথ তার বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে পরিবারের অন্যতম সেরা যুবক ছিল।”
আল-বুশাইরি জানান, দু /র্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বিয়ের আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে তার ভাতিজা সেই অ্যাপার্টমেন্টটি সাজাচ্ছিল ও গোছাচ্ছিল, যেখানে সে এবং তার বাগদত্তা তাদের বিবাহিত জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল।
চোখের জল সামলে আল-বুশাইরি আল-জাহরানিকে একজন দয়ালু যুবক হিসেবে বর্ণনা করেন, যে সবসময় অন্যের ভালো দিকটা দেখত এবং নিজের দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিল।
তিনি বলেন, “আমার বোন তাকে খুব ভালোবাসত। তার ছবি দিয়ে বোনের বাড়িটা ভরা।”
দু /র্ঘটনায় নি হ /ত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
রবিবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরার আল-জুয়াইমার কাছে সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বি /ধ্ব /স্ত হয়ে আরোহী ১৪ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই সৌদি নাগরিক ছিলেন।