রংপুরে ভিসা জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট, ভূয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসাসহ জাল নথি উদ্ধার
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ ভিসা জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট, ভূয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা, জাল অফার লেটার, অর্থ আদায়ের রশিদ, বিমান টিকিট, ভুয়া পরিচয়পত্রসহ বিপুল পরিমাণ প্রতারণার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর নগরীর তাজহাট থানাধীন কলেজপাড়া এলাকার সিডিটি হাউজিং সোসাইটির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই তাজহাট থানায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রংপুর মহানগরের হাজিরহাট এলাকার রুহানুর রহমান (২৩), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতা মধুপুর এলাকার শফিক ইসলাম (৩১) এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ঘোনপাড়া বেলতলী বাজার এলাকার হিমেল ইসলাম (২২)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চক্রটির আস্তানা থেকে ১০টি বাংলাদেশি আসল পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। এসব পাসপোর্টে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা ভূয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা সংযুক্ত ছিল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে দুটি জাল অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট, প্রায় ৩০ সেট ভুয়া চাকরির অফার লেটার, একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ভিসা প্রসেসিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন জাল নথি, অর্থ আদায়ের রশিদ এবং বিমান টিকিট।
অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় অস্ট্রেলিয়ার কোস্টা গ্রুপের ডিরেক্টর অ্যাডমিন পরিচয়ে তৈরি একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, প্রতিষ্ঠানটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে তৈরি দুটি প্যানাফ্লেক্স ব্যানার, একটি স্টেইনলেস স্টিলের টেবিল নেমপ্লেট এবং চারটি নেম ট্যাগ। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ নথি আন্তর্জাতিক ভিসা আবেদন কেন্দ্র ভিএফএস গ্লোবাল-এর নামে ব্যবহৃত খামে সংরক্ষিত ছিল, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া পেজ খুলে বিদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের টার্গেট করতেন। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা তরুণ-যুবক এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিযুক্তরা নিজেদের ভাড়া করা অফিসে প্রতিষ্ঠানের লোগোসংবলিত ব্যানার, নেমপ্লেট ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন। এরপর আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তাতে জাল ভিসা সংযুক্ত করতেন এবং ভুয়া নিয়োগপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে কতজন প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।