*তিতাস নদীর তীরে*
কলমে / তাছলিমা আক্তার খন্দকার (নুশরাত) স্টাফ রিপোর্টার
তিতাস নদীর তীরে বসে আছি একা,
নরম বাতাসে উড়ে চুল, স্মৃতির রেখা।
কলকল জলের গানে মিশে আছে কান্না,
ঢেউয়ের আঁচলে লেখা পুরনো এক বায়না।
কাশফুল দোলে হাওয়ায়, সাদা মেঘের ভেলা,
তোমার নামটি লিখি বালুচরে একেলা।
নদী তুমি সাক্ষী, তুমি তো সব জানো,
কোন অভিমানে সে আজ আর আসে না কখনো।
এই ঘাটে বসেই তো হাত ধরেছিলে তুমি,
বলেছিলে, “তিতাসের মতো বয়ে যাবো আমি”।
কথা রাখোনি, তুমি গেছো অন্য কোনো দেশে,
আমি তবু রোজ আসি, তোমার ফেরার আশে।
নৌকা চলে যায়, মাঝি গায় ভাটিয়ালি,
সুরের ভেতর খুঁজি তোমার হাসির ঝলকখানি।
সন্ধ্যা নামে, জলে নামে সোনালি আবির,
বুকের ভেতর জমে ওঠে শূন্যতার নিবিড়।
তিতাস, তুই বল, সে কি আর আসবে ফিরে?
নাকি আমাকেও নিবি তোর স্রোতের ভিড়ে?
তীরে বসে থাকি, জোছনা মাখি গায়ে,
বিরহের কবিতা লিখি তিতাসের কান্নায়।
নদী তুই বয়ে চল, আমি বসে থাকি,
তোর মতোই বুকে নিয়ে হাজার না-পাওয়া ফাঁকি।
তিতাস নদীর তীরে প্রেমের সমাধি,
আমি আর আমার একলা, আর এক আকাশ আধি।