*তিতাস নদীর তীরে*
কলমে / এম বাদল খন্দকার

তিতাস নদীর তীরে আজ হঠাৎ দেখা,
গোধূলির আলোয় তুমি, আমি একা।
কাশবনে হাওয়া লেগে কাঁপে থরথর,
তোমার আঁচল ছুঁয়ে যায় আমার শহর।
তুমি বললে, “বাদল, শোনো নদীর গান,
ঢেউয়ের তালে মিশে আছে অভিমান”।
আমি বললাম, “তিতাস তো সাক্ষী থাক,
তোমার চোখে আমি আমার আকাশ আঁক”।
নরম বালুচরে তোমার পায়ের ছাপ,
পাশে আমার নামটা লিখে দিলে চুপচাপ।
জল ছুঁয়ে যায়, তবুও মোছে না লেখা,
এম বাদল খন্দকার + তুমি – রইলো আঁকা।
নৌকার মাঝি দূরে গায় ভাটিয়ালি সুর,
তুমি কাঁধে মাথা রেখে বললে, “দূর…
এই মুহূর্তটা যদি থেমে যেত এখানে,
তিতাস হতো সাক্ষী আমাদের গহীনে”।
চাঁদ উঠেছে, জলে তার কাঁপন লাগে,
তোমার হাসিতে আমার বুকের আগুন জাগে।
হাতটা ধরো, কথা দাও যাবে না ছেড়ে,
তিতাসের মতোই বইবে আমার ঘরে।
এই নদী, এই তীর, এই সন্ধ্যার তারা,
সবাই জানে তুমি আমার, আমি তোমার পারা।
এম বাদল খন্দকার লিখে রাখে খাতায়,
তিতাস নদীর তীরে প্রেম জমা রাখা যায়।
ভালোবাসি বললে কম বলা হয়,
তুমি আমার তিতাস, তুমি আমার লয়।
জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে যতই চলি,
শেষ ঠিকানায় তোমারই আঁচল তুলি।