দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধায় গণমিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান
মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ
উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ির তিস্তামুখ ঘাট ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুমুখী সেতু’ (দ্বিতীয় যমুনা সেতু) নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধায় গণমিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ‘তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক চরাঞ্চলের মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, শ্রমজীবী এবং কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধা শহরের বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে চরের সর্বস্তরের মানুষের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ রুটে বহুমুখী সেতু নির্মাণের পাশাপাশি চরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপন এবং চর ট্যুরিজম উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মাহামুদুন্নবী টিটুল, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু, ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহিন, আশরাফুল ইসলাম টিটু, মশিউর রহমান, সাদেকুল ইসলাম মনির, মাজেদুর রহমান মাজু, জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর সরকার, সমাজসেবক ওহিদুল ইসলাম জয়, সামছুল হক, দুলু মিয়া ও প্যানেল চেয়ারম্যান জিহাদুর রহমান মওলা।
বক্তারা বলেন, তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ রুটটি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোর। তারা দাবি করেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশে এ সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। তারা আরও বলেন, যমুনা নদীর এ অংশে স্থায়ী চর থাকায় তুলনামূলক কম ব্যয়ে পৃথক দুটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সমাবেশ থেকে বক্তারা চলমান জাতীয় বাজেটে প্রকল্পটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি উত্থাপন করেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রেরণের কথা জানান।