বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি জবরদখল, মায়ের কবর জিয়ারতে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাফিরুল ইসলাম (৩৩) সোনাতলা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার মা মোছা. রোকেয়া বেগম জীবিত অবস্থায় ৪ শতক জমি তার নামে দলিল করে দেন এবং আরও ২ শতক জমি তিনি তার ভাইয়ের কাছ থেকে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই ৬ শতক জমি খাজনা-খারিজ পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছেন। জমির ৩ শতক অংশে তার মৃত মায়ের কবর রয়েছে।
অভিযোগে তিনি বলেন, একই গ্রামের মো. বেলাল মিয়া, মো. মিলন মিয়া, মো. আব্দুল মজিদ, মোছা. মেরিনা বেগম ও মোছা. রাশেদা বেগম যোগসাজশ করে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তার জমির ৩ শতক অংশ ঘিরে জবরদখল করেছেন। এমনকি তার মায়ের কবর জিয়ারত করতেও বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাফিরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জমির বিষয়ে প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং খুন-জখমের হুমকি দিয়ে আসছে। গত ৩১ মে সকালে তিনি ব্যবসার কাজে মহাস্থান হাটে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা তার গোয়ালঘরের টিনের চালা কেটে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরের ওপর নতুন করে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ সময় তার স্ত্রী ও বাবা বাধা দিতে গেলে তাদেরও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও গুরুতর ক্ষতির হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে ঘটনাটি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে উল্লেখিত জমির অবস্থান সোনাতলা উপজেলার উত্তর জোড়গাছা মৌজায়। খতিয়ান নং-২২৬০ এবং দাগ নং-৮২৪৬ ও ৮২৪৮ এর মোট ৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা জাফিরুল ইসলামের গোয়ালঘরের টিনের চালা কেটে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরের ওপর নতুন করে প্রাচীর নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়াও অভিযুক্তদের নিকট কবলাকৃত সম্পত্তির কোন কাগজ নেই বলেও স্বীকার করেছেন।
এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ঘটনার তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।