মোঃ আবুল হাসেম প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বাংলার
*ঘুমিয়ে থাকা বিশ্ব মানবতার বিপক্ষেই কাজ করছে: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রই বড় প্রমাণ*
*নিজস্ব প্রতিবেদক*
*১ জুন ২০২৬, রবিবার*
অন্যায়ের সামনে নীরবতা মানেই অপরাধের পক্ষ নেওয়া। ঘুমিয়ে থাকা বিশ্ব আজ মানবতার বিপক্ষেই কাজ করছে — এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বৈতনীতি ও নীরবতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান।
*নিষেধাজ্ঞার নামে জনগণের উপর যুদ্ধ*
ইরানের বিরুদ্ধে দশকের পর দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আজ সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। হাসপাতালে ওষুধ নেই, শিশুরা ক্যান্সারের চিকিৎসা পাচ্ছে না, বিদ্যুৎ-গ্যাসের অভাবে দৈনন্দিন জীবন অচল। অথচ জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্ব মোড়লরা “কূটনৈতিক আলোচনা”র নামে সময়ক্ষেপণ করছে। মানবাধিকারের কথা বলা রাষ্ট্রগুলোই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে লক্ষ নিরীহ মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
*মানবতার মুখোশে যুদ্ধের রাজনীতি*
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে “গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের রক্ষক” দাবি করলেও তাদের সামরিক নীতির ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের বহু প্রান্তে ড্রোন হামলা, হস্তক্ষেপ ও অস্ত্রবাণিজ্যের মাধ্যমে তারা যে ধ্বংস ডেকে এনেছে, তা মানবতার সংজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মুখে শান্তির কথা, হাতে বোমা — এই দ্বৈতনীতি আজ বিশ্ব রাজনীতির মূল চিত্র।
*ঘুম ভাঙবে কবে?*
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব মানবতা আজ ঘুমিয়ে আছে। ফিলিস্তিনের শিশুর কান্না, ইরানের হাসপাতালের আহাজারি, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের আর্তনাদ — কিছুই এই “ঘুমন্ত বিবেককে” জাগাতে পারছে না। শক্তিশালীরা লড়াই করে, দুর্বলরা মরে। আর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শুধু নিন্দা প্রস্তাব আর বিবৃতি দিয়েই দায় সারে।
তবে আশার কথা, ঘুম ভাঙছে। সোশ্যাল মিডিয়া, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, কলমের শক্তিই এখন মানবতার শেষ ভরসা। মানুষ যদি চুপ না থাকে, বিবেক যদি জেগে ওঠে, তবে একদিন এই ঘুম ভাঙবেই।
*শেষ কথা:* মানবতা মানে শুধু স্টেটমেন্ট না, মানে মানুষের জীবন বাঁচানো। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে বিশ্বের নীরবতা প্রমাণ করে — ঘুমিয়ে থাকা বিবেকও এক ধরনের অপরাধ।