বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
রাজাপুরে চল্লিশকাহনিয়া শাহ রুমি-চান দরবার শরীফে ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ- ৪ নং ভবেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আশা ব্যক্ত করে দোয়া চাইলেন হাজী মফিজুল ইসলাম রনি মাস্টার মোঃ দুলাল সরকার কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হলেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র আইভী ​নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা সংবাদ সীমান্তে বিএসএফের গুলি: নদী পার হয়ে দেশে ফেরার পথে দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ ​ ৩ জুন, ২০২৬ সাঘাটায় আঙুল কর্তনের মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি, আতঙ্কে পরিবার মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: সাঘাটায় আঙুল কর্তনের মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি, আতঙ্কে পরিবার মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: কালিয়াকৈরে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ জন সদস্য গ্রেপ্তার মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে পানতিতা গ্রামে ফুটবল বিতরণ করলেন মেম্বার প্রার্থী মুত্তাকিন মোল্লা* সোনাতলায় মায়ের কবর জিয়ারতে বাধা। সাগর,সোনাতলা (বগুড়া)প্রতিনিধি: সংবাদ ও চেয়ারম্যান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেটর কাউন্সিল।

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরোধীরা ৭১-এ বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল,তারাই ইতিহাসের খুনি-রাজাকারদের ‘শহীদ’ বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

বিএনপি- জামায়তের ইতিহাসকে বিকৃত করার রাজনীতি নতুন কিছু না। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, যখন রাজাকার রাজনীতির উত্তরসূরীরা নিজেদের অতীত লুকাতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করে।খবর আইবিএননিউজ।

আজ যারা আব্দুল মালেককে “শহীদ” বানিয়ে তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের আগে ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা উচিত। আব্দুল মালেক ছিল তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মী, যে সংগঠন ছিল আইয়ুব-ইয়াহিয়ার শাসনের পক্ষে এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থানকারী শক্তি। সেই ছাত্রসংঘই পরবর্তীতে নাম পাল্টে ইসলামী ছাত্রশিবির হয়।

তখনকার উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন বানচাল করতে গিয়ে সংঘর্ষে নিহত হয় মালেক। অথচ আজ তাকে “শহীদ” বানিয়ে ইতিহাসকে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো, যারা বলে “৭১ সালে ছাত্রশিবির ছিল না”, তারা আবার কিভাবে সেই ছাত্রসংঘের কর্মী মালেককে নিজেদের আদর্শিক শহীদ হিসেবে তুলে ধরে?

বাস্তবতা হলো, ১৯৭১ সালে জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। আলবদর বাহিনী গঠন করে নিজামী। অথচ আজ সেই নিজামী, আজহার, গোলাম আজমদের এরা “মজলুম” বানায়, আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদকে “খুনি” বলে!

এই দ্বিচারিতা শুধু রাজনৈতিক না, এটা আদর্শিক প্রতারণা।

ইতিহাস সাক্ষী, ৮০-এর দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাস, ব্রাশফায়ার, খুন, ম্যানহোলে লাশ ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা বহুবার ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি, রাবি সব জায়গার রক্তাক্ত ইতিহাস এখনো মানুষের স্মৃতিতে আছে। অথচ সেই ইতিহাস আড়াল করে আজ তারা নিজেদের “নির্যাতিত” সাজানোর নাটক করছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এরা সবসময় নিজেদের অপরাধীদের “শহীদ” আর অন্যদের “খুনি” বানানোর এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছে। রাজাকারদের নিয়ে কান্নাকাটি করবে, যুদ্ধাপরাধীদের বীর বানাবে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মানুষদের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াবে।

তোফায়েল আহমেদ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাই রাজাকার রাজনীতির উত্তরসূরীদের চোখে তিনি কখনোই গ্রহণযোগ্য হবেন না। কারণ তাদের রাজনীতি সবসময় স্বাধীন বাংলাদেশবিরোধী চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, আজও এই দেশকে সেই রাজাকার আদর্শের উত্তরসূরীদের বিষাক্ত প্রচারণা সহ্য করতে হচ্ছে। যারা একসময় বাংলাদেশ চায়নি, আজ তারাই ইতিহাসের মালিক সাজার অভিনয় করছে।

কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। সত্য শেষ পর্যন্ত সত্যই থাকে।


More News Of This Category