শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

ভ্যাকসিন হিরো” : অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় –

Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

“”ভ্যাকসিন হিরো” : অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় –

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “ভ্যাকসিন হিরো” পুরস্কার প্রদান করা হয় । টিকাদান কর্মসূচিতে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক জোট ‘গ্যাভি’ (GAVI) বাংলাদেশে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থায়ন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় । শেখ হাসিনার মেয়াদের শেষ সময়েও (২০২২-২০২৪) বাংলাদেশে শিশুদের সম্পূর্ণ ঠিকাদানের (full vaccination coverage) হার প্রায় ৯০% এর কাছাকাছি ছিল । ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হামের টিকা কার্যক্রমের জন্য ‘গ্যাভি’ থেকে ৬০০ কোটি টাকা এবং আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য আরো ১৭.৮ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করা হয়েছিল ।

ডক্টর ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হামের ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রচলিত পদ্ধতি (অর্থাৎ ‘ইউনিসেফ’ এর মাধ্যমে সংগ্রহ করার পদ্ধতি) পরিহার করে সরাসরি প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় । “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালে ২৭ বছর ধরে চলে আসা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির অপারেশন প্ল্যান বা ওপি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বহুজাতিক ঋণদাদের অর্থায়নে পরিচালিত হতো । ফলে বন্ধ হয়ে যায় স্বাস্থ্য খাতের ৩৪টি উন্নয়ন কর্মসূচি । বন্ধ হয়ে যায় টিকা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ক্রয় প্রক্রিয়া । এভাবেই কলমের এক খোচায় মৃত্যুদন্ড লেখা হয়ে যায় আমাদের শিশুদের । যদিও ইউনিসেফ সারা পৃথিবীর জন্য বিপুল পরিমাণের টিকা একসাথে কিনে বিধায় সর্বনিম্ন দামে টিকা কিনে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করতো । অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করার একটা চেষ্টা ছিল বলে অনেকে মনে করেন । অধিক সুবিধার (কমিশন) ব্যাপারে দর কষাকষি করতে গিয়ে সরকার কোন টিকাই কিনতে পারেনি । এছাড়াও অর্থ ছাড়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা অডিট আপত্তির অজুহাত দেখিয়ে অর্থ ছাড় বিলম্বিত করে । সেই সময়ে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের নামে সবকিছু ঢেলে সাজাতে গিয়ে টিকা দানের সাথে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাবে টিকাদানের হার ২০২৫ সালে আশঙ্কাজনক ভাবে ৫৯.৬ শতাংশে নেমে আসে । এ সময়ে পাঁচ মাস থেকে পনেরো মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকাদান চরমভাবে বিঘ্নিত হয় । এটাই বর্তমানে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার একমাত্র কারণ । ইউনিসেফ বলছে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৫% ই পাঁচ বছরের কম বয়সী । আরো উদ্বেগজনক তথ্য হলো আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ কোন টিকাই পায়নি, আর ২১% আংশিক টিকাবাপ্ত । নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে যেসব শিশু বাদ পড়ে তাদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনা হয় । সর্বশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, শেষ হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে । পরবর্তী ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, তারপর তারিখ পরিবর্তন করে নেয়া হয় সেপ্টেম্বরে । কিন্তু এর আগেই দেশে চলে আসে ডক্টর ইউনুসের ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ । জাতি ব্যস্ত হয়ে যায় “জুলাই সনদ” ও নির্বাচন নিয়ে । “এ সময়ে শিশুদের প্রতি একের পর এক অন্যায় করা হয়েছে । মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে প্রচারণা ছিল না, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন ছিল না, ক্রিমিনাশক ঠিকমতো খাওয়ানো হয়নি । এসবই অপুষ্টি বাড়িয়েছে । এর মধ্যে ঠিক সময়ে হামের টিকা না পেয়ে শিশুরা অরক্ষিত অবস্থায় চলে যায় । তারই পরিণতি এই প্রাদুর্ভাব, এবং মৃত্যু” । এ বছর ২০শে এপ্রিল নতুন ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার আগেই সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে এই প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল । হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯% । ২০১৬ সালের তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ শতাংশ । দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কাভারেজ ছিল ২২ শতাংশ । ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১% । ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় কাভারেজ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় । বিগত দুই দশকের মধ্যে হামের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু বাংলাদেশ দেখেছে ২০১৭ সালে- ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল সে বছর, সেটা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীতে । ২০১৬ সালে হামজনিত মৃত্যু ছিল মাত্র একটি, ২০১৮ তে ছয়টি । ২০২৬ সালের কেবল মার্চ-এপ্রিল-মে (৮ মে পর্যন্ত) মাসেই হামজনিত মৃত্যু সরকারি হিসেবে ৩৪৩ জন, বেসরকারি হিসেবে সেটা আরো অনেক বেশি । দুর্ভাগ্যজনক এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য কেবলমাত্র এবং একমাত্র ইউনুস সরকারই দায়ী ; অন্য কেউ নয় । হিরো” : অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় –

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে “ভ্যাকসিন হিরো” পুরস্কার প্রদান করা হয় । টিকাদান কর্মসূচিতে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক জোট ‘গ্যাভি’ (GAVI) বাংলাদেশে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থায়ন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় । শেখ হাসিনার মেয়াদের শেষ সময়েও (২০২২-২০২৪) বাংলাদেশে শিশুদের সম্পূর্ণ ঠিকাদানের (full vaccination coverage) হার প্রায় ৯০% এর কাছাকাছি ছিল । ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হামের টিকা কার্যক্রমের জন্য ‘গ্যাভি’ থেকে ৬০০ কোটি টাকা এবং আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য আরো ১৭.৮ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করা হয়েছিল ।

ডক্টর ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হামের ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রচলিত পদ্ধতি (অর্থাৎ ‘ইউনিসেফ’ এর মাধ্যমে সংগ্রহ করার পদ্ধতি) পরিহার করে সরাসরি প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় । “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালে ২৭ বছর ধরে চলে আসা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির অপারেশন প্ল্যান বা ওপি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বহুজাতিক ঋণদাদের অর্থায়নে পরিচালিত হতো । ফলে বন্ধ হয়ে যায় স্বাস্থ্য খাতের ৩৪টি উন্নয়ন কর্মসূচি । বন্ধ হয়ে যায় টিকা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ক্রয় প্রক্রিয়া । এভাবেই কলমের এক খোচায় মৃত্যুদন্ড লেখা হয়ে যায় আমাদের শিশুদের । যদিও ইউনিসেফ সারা পৃথিবীর জন্য বিপুল পরিমাণের টিকা একসাথে কিনে বিধায় সর্বনিম্ন দামে টিকা কিনে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করতো । অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করার একটা চেষ্টা ছিল বলে অনেকে মনে করেন । অধিক সুবিধার (কমিশন) ব্যাপারে দর কষাকষি করতে গিয়ে সরকার কোন টিকাই কিনতে পারেনি । এছাড়াও অর্থ ছাড়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা অডিট আপত্তির অজুহাত দেখিয়ে অর্থ ছাড় বিলম্বিত করে । সেই সময়ে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের নামে সবকিছু ঢেলে সাজাতে গিয়ে টিকা দানের সাথে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাবে টিকাদানের হার ২০২৫ সালে আশঙ্কাজনক ভাবে ৫৯.৬ শতাংশে নেমে আসে । এ সময়ে পাঁচ মাস থেকে পনেরো মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকাদান চরমভাবে বিঘ্নিত হয় । এটাই বর্তমানে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার একমাত্র কারণ । ইউনিসেফ বলছে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৫% ই পাঁচ বছরের কম বয়সী । আরো উদ্বেগজনক তথ্য হলো আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ কোন টিকাই পায়নি, আর ২১% আংশিক টিকাবাপ্ত । নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে যেসব শিশু বাদ পড়ে তাদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনা হয় । সর্বশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, শেষ হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে । পরবর্তী ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, তারপর তারিখ পরিবর্তন করে নেয়া হয় সেপ্টেম্বরে । কিন্তু এর আগেই দেশে চলে আসে ডক্টর ইউনুসের ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ । জাতি ব্যস্ত হয়ে যায় “জুলাই সনদ” ও নির্বাচন নিয়ে । “এ সময়ে শিশুদের প্রতি একের পর এক অন্যায় করা হয়েছে । মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে প্রচারণা ছিল না, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন ছিল না, ক্রিমিনাশক ঠিকমতো খাওয়ানো হয়নি । এসবই অপুষ্টি বাড়িয়েছে । এর মধ্যে ঠিক সময়ে হামের টিকা না পেয়ে শিশুরা অরক্ষিত অবস্থায় চলে যায় । তারই পরিণতি এই প্রাদুর্ভাব, এবং মৃত্যু” । এ বছর ২০শে এপ্রিল নতুন ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার আগেই সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে এই প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল । হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯% । ২০১৬ সালের তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ শতাংশ । দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কাভারেজ ছিল ২২ শতাংশ । ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১% । ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় কাভারেজ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় । বিগত দুই দশকের মধ্যে হামের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যু বাংলাদেশ দেখেছে ২০১৭ সালে- ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল সে বছর, সেটা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীতে । ২০১৬ সালে হামজনিত মৃত্যু ছিল মাত্র একটি, ২০১৮ তে ছয়টি । ২০২৬ সালের কেবল মার্চ-এপ্রিল-মে (৮ মে পর্যন্ত) মাসেই হামজনিত মৃত্যু সরকারি হিসেবে ৩৪৩ জন, বেসরকারি হিসেবে সেটা আরো অনেক বেশি । দুর্ভাগ্যজনক এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য কেবলমাত্র এবং একমাত্র ইউনুস সরকারই দায়ী ; অন্য কেউ নয় ।


More News Of This Category