তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এক মা আজ রিকশার হ্যান্ডেল ধরে রাস্তায় নেমেছেন।
খোকন মাহমুদ মানবাধিকার খবর প্রতিনিধি,,,
হেলেনা বেগম। নামটা খুব সাধারণ, কিন্তু তার গল্পটা অসাধারণ এক লড়াইয়ের। যে পথে সাধারণত শুধু পুরুষদেরই দেখা যায়, সেই পথেই তিনি হাঁটছেন মাথা উঁচু করে। কারণ, তার পেছনে আছে তিনটি জীবন, তিনটি ভবিষ্যৎ।
গত ১১ বছরে তিনি কী করেননি! কখনো গার্মেন্টস, কখনো নির্মাণ শ্রমিক, কখনো তরমুজ বিক্রেতা, আবার কখনো হোটেলের কর্মী। জীবনের কাছে যখন যা পেয়েছেন, সেটাকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থেকেছেন। আর এখন, গত ছয় মাস ধরে রিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন।
কিশোরী বয়সে বিয়ে, অল্প সময়ে তিন সন্তান, তারপর স্বামীর চলে যাওয়া। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। কারণ একজন মা ভেঙে পড়লে তিনটি জীবন থেমে যায়।
এই সমাজে যেখানে নারীর চলার পথ এখনও সহজ নয়, সেখানে হেলেনা বেগম প্রতিদিন প্রমাণ করছেন—সংগ্রাম লিঙ্গ দেখে না, সাহসই আসল পরিচয়।
গ্যারেজ মালিকও বিশ্বাস করে তার হাতে রিকশা তুলে দিয়েছেন—এই বিশ্বাসটুকুও কম বড় কিছু নয়। তাঁকেও ধন্যবাদ।
হেলেনা বেগমদের গল্পগুলো আমরা যত বেশি বলব, ততই হয়তো সমাজ একটু বদলাবে। সম্মানটা শুধু কথায় নয়, কাজে দেখানোর সময় এসেছে।
একজন মায়ের এই লড়াইকে স্যালুট।