বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন, রিপোর্টার:
ন্যাশনাল ইউনিটি কাউন্সিলের নেতৃস্থানীয় সংগঠক সোহাগ মিয়ার পিতা, প্রবীণ জননেতা ও সমাজসংগঠক কমরেড নজরুল ইসলাম আর নেই। গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে হঠাৎ করে তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭৯–৮০ শতাংশে নেমে যাওয়ায় তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অবশেষে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
কমরেড নজরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। তাঁর সুস্থতার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দোয়ার আহ্বান জানানো হলেও নিয়তির কাছে হার মানতে হয় সবাইকে। তাঁর মৃত্যুতে ন্যাশনাল ইউনিটি কাউন্সিলসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
বাবার মৃত্যুর সংবাদ জানাতে গিয়ে শোকাহত কণ্ঠে সোহাগ মিয়া বলেন—
“বাবা আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছে। নিয়তি আমায় অসহায় করে রেখেছে। আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না—আমি ছেলে হয়ে বাবার জীবন রক্ষা করতে পারিনি, শুধু বেকারত্বের কারণে। বাবা আমাকে যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, আমি চাই সেই শিক্ষা পুরো সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার বাবা জীবনের শেষ সময়েও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান করেছেন। আল্লাহ যেন আমাকে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মধ্যে—সে পৃথিবীর শেষ সময় পর্যন্ত আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।”
কমরেড নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন আদর্শবাদী, সৎ ও নির্লোভ জননেতা। সাধারণ মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সামাজিক ঐক্যের প্রশ্নে তিনি আজীবন আপসহীন ছিলেন। তাঁর চিন্তা, আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ন্যাশনাল ইউনিটি কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে।
আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।