নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরা জেলার খালিসাখালী এলাকায় ১৩১৮ বিঘা সরকারী খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত প্রায় ৮০০ ভূমিহীন পরিবারের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল (আইসিআইসি)-এর যৌথ উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বহু বছর ধরে আদালতের একাধিক আদেশ থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় ভূমিহীনরা চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিতে জীবনযাপন করছিলেন।
স্মারক নং: 1001982512020~92 এর ভিত্তিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন একটি লিখিত বিবরণে জানান, খালিসাখালী অঞ্চলের এই ভূমি সম্পূর্ণরূপে সরকারী খাস জমি, যেখানে ভূমিহীন পরিবারগুলো বহু বছর ধরে বসবাস করছেন। ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়ায় কয়েক দফা আদালত স্পষ্টভাবে ভূমিহীনদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। ২০১৬ সালে এফএমএ মামলা নং ২১৬/২০১২ এর রায়ে জেলা প্রশাসককে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রিট মামলা নং ১৫০০/২০২২ এ হাইকোর্ট পুনরায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
বিবাদীপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ২৫৬৮/২০১৭ দায়ের করলে ২০২১ সালে আপিল বিভাগ মামলা নিষ্পত্তি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমিহীনদের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ১৬৮/২০২১ খারিজ হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ চূড়ান্ত হয়।
তবে আদালতের পরিষ্কার ও ধারাবাহিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রায় ৮০০ পরিবার চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগসাজশে ভূমিহীনদের উৎখাতের চেষ্টা চলছে, যা তাদের জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন বলেছেন, ভূমিহীন পরিবারগুলো জমিটি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর স্থায়ী বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি জেলা প্রশাসনের প্রতি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও মানবিক বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ বলেন, ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তারা সবধরনের আইনি সহায়তা, তদন্তমূলক কার্যক্রম এবং মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন। ভূমিহীনদের জমি রক্ষার সংগ্রাম এখন একটি জাতীয় মানবাধিকার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
খালিসাখালী এলাকার ৮০০ ভূমিহীন পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত হলে তারা নিরাপদ বসবাসের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও পাবে। অন্যথায় আবারও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়বে এই অসহায় জনগোষ্ঠী।