গাইবান্ধায় সার গোডাউনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা; মোটরসাইকেল ভাঙচুর, আহত একাধিক
মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাফার সার গোডাউনকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ নুর মোহাম্মদ প্রিন্স (৪৭) অভিযোগ করেন, তিনি বৈধভাবে সার লোড-আনলোড কার্যক্রমের দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রমিকদের নিয়ে গোডাউনে কাজ শুরু করতে যান। এ সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের কাজে বাধা দেয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এবং বিকাশ চন্দ্র সাহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তারা দেশীয় অস্ত্রসহ উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হুমকি দেয় এবং বিপুল পরিমাণ চাঁদা দাবি করে। পাশাপাশি শ্রমিকদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগী ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় এজাজ আহমেদ ডিউক গুরুতর আহত হন। তার শরীরে একাধিক স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া হাফিজ আসাদ লিখন, আরিফসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
হামলার সময় হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দাবি করেন, ঘটনাস্থলে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে জড়িতদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মোঃ আব্দুল আল মামুন বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।