স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে দুধ পান করার পরপরই শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, খিঁচুনি ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে সবার অবস্থা স্থিতিশীল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। বিতরণকালে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং ভেতরে জমাটবাঁধা (দইয়ের মতো) দুধ দেখতে পান শিক্ষকরা।
তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। শিক্ষকেরা প্রমাণের জন্য নষ্ট প্যাকেটের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে উক্ত কর্মকর্তাকে পাঠান। খবর পেয়ে মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দুধ পরীক্ষা করেন এবং নিজে পান করে দাবি করেন যে দুধে কোনো সমস্যা নেই। এরপর তার আশ্বাসে শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুধ পান করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অসুস্থতার সংখ্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, “দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমার তীব্র মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। শরীর এত দুর্বল হয়ে পড়ে যে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে শিক্ষকরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।”
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।