সরাইল উপজেলা শাহবাজপুর ইউ পির ইতিহাস, টাউন থেকে ইউনিয়ন,
এম বাদল খন্দকার( বিশেষ প্রতিনিধি)
সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়, এটি ব্রিটিশ আমলের বন্দরনগরী থেকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন পর্যন্ত এক দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী।
জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, শাহবাজপুরের নাম এসেছে জাংদার বংশের শাহবাজ খান থেকে। পূর্বে এই এলাকা _কাউয়াকোণা_ নামে পরিচিত ছিল। পঞ্চখণ্ড পরগণার স্থানীয় হিন্দু জমিদার জাংদার বংশের স্বরূপরাম জাংদার দিল্লি সফরের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শাহবাজ খান উপাধি পান এবং পরে আলাদা শাহবাজপুর পরগণা প্রতিষ্ঠা করেন।
সরাইল উপজেলা সৃষ্টির আগেই শাহবাজপুর “জন্মগত জনপদ টাউন” হিসেবে পরিচিত ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে তিতাস নদীর তীরে শাহবাজপুর বন্দরনগরী ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত ছিল। এখনো অনেকে একে “শাহবাজপুর বাজার” বলে থাকেন।
শাহবাজপুর ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অধীন একটি ইউনিয়ন পরিষদ।
– *আয়তন*: ২৩.২ বর্গকিমি / ৫৭২৪ একর
– *মৌজা*: ৪টি – বড়া ধীতপুর, যাদবপুর, নোয়াগাঁও ও শাহবাজপুর
– *জনসংখ্যা*: ২০২ সালের হিসেবে ৩২,৭৭২ জন। ২০১ সালের আদমশুমারিতে ছিল ২৯,৭৫৭ জন এবং সাক্ষরতার হার ৪৭.১%।
– *ডাক কোড*: ৩৪৩১
– *বর্তমান চেয়ারম্যান*: মোঃ খাইরুল হুদা চৌধুরী বাদল
এই অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে এখানকার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত *শাহবাজপুর বহু মুখী উচ্চ বিদ্যালশ এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরাইল উপজেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও এর নাম আছে।
এছাড়া শাহবাজপুরে কয়েকশত বছরের পুরনো জোড়া মঠ এবং দেওয়ান শাহবাজের ঐতিহাসিক কুয়া অবস্থিত।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহবাজপুরের অবদান উল্লেখযোগ্য।
৫ মে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে শাহবাজপুর পাকসেনা ক্যাম্পে ৯ জন পাকসেনা নিহত হয়। সরাইল উপজেলার মোট ৩টি স্মৃতিস্তম্ভের একটি শাহবাজপুর ইউপি অফিস স্মৃতিসৌধ।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক N2 শাহবাজপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে গেছে। একসময় কৃষি প্রধান এলাকা হলেও ৫৩.৮% মানুষ এখনো কৃষিকাজের সাথে যুক্ত।
তবে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জও আছে। শাহবাজপুর-শাহজাদাপুর সড়কের ২.৬৫ কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা থাকায় বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা হয়। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৩টি সড়ক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
শাহবাজপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন।
টাউন থেকে ইউনিয়ন, বন্দর থেকে গ্রামীণ জনপদ – শাহবাজপুরের ইতিহাসে মিশে আছে জমিদারি প্রথা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা বিস্তার এবং মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতি। প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেই আধুনিক সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে সরাইলের এই ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন।