নিজস্ব প্রতিবেদক।
“ন্যায় চাই, সত্য চাই, বাঁচতে চাই—মানবিক সহযোগিতা চাই”—এই আকুতি জানিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কাচিনা এলাকার ভুক্তভোগী সালমা বেগমের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন নতুন বাংলা সাধারণ জনতার জোটের চেয়ারম্যান মোঃ আকবর হোসেন ফাইটন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি একজন অসহায় নারীর ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখে। সালমা বেগম কোনো অপরাধী নন—বরং তিনি একজন নির্যাতিত ও ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি পরিকল্পিত চক্র, পারিবারিক বিরোধ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের কারণে তাকে ও তার নিরীহ আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“একজন স্ত্রী তার স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে দিয়েছেন—এটি মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অথচ সেই ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। এটি শুধু অন্যায় নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”
মোঃ আকবর হোসেন ফাইটন অভিযোগ করেন,
“মামলার ঘটনার তারিখ, চিকিৎসার সময়কাল এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশ পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। এটি আমাদের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসংকেত।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই—এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও একই সুরে বলেন,
“আইনের অপব্যবহার করে একজন নারীকে নিপীড়ন করা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে যদি বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।”
শেষে ভুক্তভোগী সালমা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“আমি শুধু বাঁচতে চাই। আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমার অপরাধ—আমি আমার স্বামীর জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আজ আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অপমান করা হচ্ছে। আমি প্রশাসন ও সাংবাদিক ভাইদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি—আমাকে বাঁচান, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করুন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সালমা বেগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।