নিজস্ব প্রতিবেদক (একজন বান্দার আর্তি)_
(১). হে আল্লাহ, এই পবিত্র রাতে আমি আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি এমন এক হৃদয় নিয়ে, যা নিখুঁত নয়; এমন এক আমলনামা নিয়ে, যা কলঙ্কমুক্ত নয়; এমন এক আত্মা নিয়ে, যা বহুবার পথ হারিয়েছে। আমি অসংখ্যবার ভুল করেছি, অসংখ্যবার আপনার অবাধ্য হয়েছি, তবুও আপনি আপনার অসীম দয়ায় আমাকে আবারও এই বরকতময় রাত পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছেন।
(২). হে আমার রব্ব, আজকের রাতটি যেন আমার জীবনের একটি নতুন সূচনা হয়ে ওঠে। আমাকে এমনভাবে পরিশুদ্ধ করুন, যেন শুধু আমার সমস্ত পাপ মুছে যায়, এবং পাপের প্রতি আমার আকর্ষণ যেন আমার হৃদয় থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
(৩). হে আল্লাহ, আমার অন্তরের এমন অনেক গোপন ব্যথা আছে, যা আমি মানুষের সামনে প্রকাশ করি না সন্দেহ, অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, অতীতের ভুলের জন্য অনুতাপ ও অপরাধবোধ থেকে। কিন্তু আপনি সবকিছু দেখেন, সবকিছু জানেন। যদি আমি ভেতরে ভেঙে পড়ে থাকি, আমাকে জোড়া লাগিয়ে দিন। যদি আমি পথ হারিয়ে থাকি, আমাকে সঠিক হিদায়েতের পথে পরিচালিত করুন। যদি আমি দুর্বল হয়ে পড়ি, আমাকে শক্তি দান করুন। কারণ আপনি ছাড়া আমার আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই, কোনো ভরসা নেই।
(৪). হে আল্লাহ, যদি আমি আপনার থেকে দূরে সরে গিয়ে থাকি, তবে আমাকে আপনার দিকে ফিরিয়ে নিন। যদি আমার হৃদয় কঠিন হয়ে যায়, আপনার যিকির দ্বারা তাকে কোমল করে দিন। যদি আমি বারবার দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকি, তবে আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার জীবনের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলো সঠিক করে দিন। আমার হৃদয়ে দুনিয়াকে কখনো আখিরাতের চেয়ে বড় হতে দেবেন না।
(৫). হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই, সেই সব নামাজের জন্য, যেগুলো আমি তাড়াহুড়ো করে আদায় করেছি; সেই সব নিয়ামতের জন্য, যেগুলোর জন্য আমি যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিনি; সেই সব পাপের জন্য, যেগুলোকে আমি নিজের কাছে যুক্তি দিয়ে বৈধ মনে করেছি; এবং সেই সব মুহূর্তের জন্য, যখন আমি কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে অবাধ্যতাকে বেছে নিয়েছি। আমি আমার সীমাবদ্ধতার জন্য লজ্জিত, কিন্তু আপনার রহমতের উপর পূর্ণ আশাবাদী। আপনি আমার সবচেয়ে বড় ভুলের চেয়েও মহান।
(৬). হে আল্লাহ, আপনি যদি জানেন যে একই অবস্থায় আরেকটি বছর আমার হৃদয় টিকে থাকতে পারবে না, তবে আজ রাতেই আমাকে বদলে দিন। আমার হৃদয় থেকে এমন সবকিছু দূর করে দিন, যা আমাকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যদিও তা ত্যাগ করা আমার জন্য কঠিন হয়। আর তার পরিবর্তে আমাকে এমন কিছু দান করুন, যা আমাকে আপনার নৈকট্য এবং জান্নাতের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
(৭). হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে এমন ক্ষমা দান করুন যা আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাদেরকে সুস্বাস্থ্য দান করুন, তাদের জীবনে প্রশান্তি দান করুন। আর যখন তারা আপনার কাছে ফিরে যাবে, তাদের কবরকে নূর ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করে দিন। আমাকে তাদের জন্য সদকায়ে জারিয়ার কারণ বানান, অনুতাপের কারণ নয়।
(৮). হে আল্লাহ, আমাকে এমন মৃত্যু থেকে রক্ষা করুন, যা আসে হঠাৎ, যখন আমি গাফেল থাকি। আমার জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোকে আপনার স্মরণে ভরিয়ে দিন। সেগুলোকে ঈমান, আন্তরিকতা ও আপনার সন্তুষ্টি দ্বারা আলোকিত করুন। আমার শেষ নিঃশ্বাস যেন আপনার পবিত্র নাম উচ্চারণ করেই বের হয়।
(৯). হে আল্লাহ, যদি আজকের রাত লাইলাতুল কদর হয়, তবে আমাকে সেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা আজ ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে। আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদের তাকদীর বদলে গেছে তাদের আন্তরিক অশ্রু ও দো’য়ার কারণে। ফেরেশতারা যেন আমার অশ্রু প্রত্যক্ষ করে এবং আমার দো’য়াগুলোকে আপনার দরবারে পৌঁছে দেয়।
(১০). হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি, আমার যোগ্যতার কারণে নয়, বরং আপনার অসীম দয়া ও দানশীলতার কারণে। আমার আমল যদি অল্পও হয়, তবুও আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। আপনার রহমত যেন আমার সমস্ত ব্যর্থতার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে।
(১১). হে আল্লাহ, এই রাত শেষ হওয়ার পর যখন আমি নতুন দিনে জেগে উঠব, তখন আমাকে যেন নতুন এক মানুষ হিসেবে জাগিয়ে তোলেন। আরও পবিত্র, আরও কোমল হৃদয়ের, আরও আপনার নিকটবর্তী একজন বান্দা হিসেবে। এই রাত যেন আমার জীবনের আরেকটি অপচয় হওয়া রমজানের রাত না হয়। এটিকে সেই রাত বানিয়ে দিন, যা আমার অনন্ত জীবনের গন্তব্যকে বদলে দেয়।
(১২). হে আল্লাহ, যদি আজ সেই রাত হয় যখন আপনার রহমত পৃথিবীতে নেমে আসে, তবে আমাকে অতিক্রম করে যাবেন না। আমার নাম যেন গাফিলদের তালিকায় লেখা না হয়।
(১৩). আমি আপনার দরজায় দাঁড়িয়ে আছি; আমার কাছে কিছু নেই, শুধু আশা আছে। আমার আমল অল্প, আমার পাপ অনেক, কিন্তু আপনার উপর আমার ভরসা, সবকিছুর চেয়ে বড়।
(১৪). আপনি যদি আজ আমাকে ক্ষমা করেন, তবে কেউ তা প্রশ্ন করতে পারবে না। আপনি যদি আজ আমাকে গ্রহণ করেন, তবে কেউ আমাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।
(১৫). অতএব হে আল্লাহ, আমার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান। ক্ষমার দৃষ্টিতে তাকান। একজন অসহায় বান্দার প্রতি আপনার করুণার দৃষ্টিতে তাকান।
(১৬). যে কেবল আপনারই মুখাপেক্ষী। আমাকে যেন এই বরকতময় রাত থেকে খালি হাতে ফিরিয়ে না দেন। আমিন। (সংগৃহীত)
*আল্লাহ-হুম্মা সাল্লি, ওয়া সাল্লিম, ওয়া বারিক আ’লা মুহাম্মাদ; আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন।* (মূসা: ১৬-০৩-২৬)