রংপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
সাকিনের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
আরমান হোসেন রাজু
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুরে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে সাকিনের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-সংলগ্ন মেডিকেল মোড়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে সন্ধ্যার পর থেকেই রংপুর মেডিকেল কলেজের শত শত শিক্ষার্থী মেডিকেল মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে বসে পড়েন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, সাকিন ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘আমার ভাই জেলে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আরপিএমপির মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর করতে হবে’, ‘প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার কেন, জবাব চাই’ ইত্যাদি।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের দাবি, সাকিন কেবল ওই ছাত্রীর ব্যক্তিগত শিক্ষক ছিলেন। হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাকিনের গ্রেপ্তারের ছবি প্রকাশেরও নিন্দা জানান তারা।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কবিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুধু এজাহার হলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। আমাদের বলা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, “কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরও জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, ২২ জুন সোমবার বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকার হোটেল নর্থ ভিউয়ের ছাদের রেলিং থেকে পড়ে নুজশাত জাহান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
নুজশাতের পরিবার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে এর পেছনে প্ররোচণার অভিযোগ তুলেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম মেডিকেল শিক্সার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।