বিচারপতি এ.কে.এম.আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ স্টাফ রিপোটার,,,
আসাদুজ্জামান ১৯৮৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৮৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন।
আসাদুজ্জামান ২৫ অক্টোবর ২০০১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন।
আসাদুজ্জামানকে ২৭ আগস্ট ২০০৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১২ সালের ১৫ জুন আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মাহমুদুল হককে হাইকোর্ট বিভাগে জামিন ও আপিল আবেদনের শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়।৩১ জুলাই আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমান ২০০৮ সালের কর ফাঁকির মামলায় গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ১০ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেন।
২০১৬ সালের ৭ জুন আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি আতাউর রহমান খান ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে জামিন দেন।আনামের বিরুদ্ধে ৬৫টি মানহানি ও ১৭টি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ ৮২টি মামলা রয়েছে।
২৬ নভেম্বর ২০১৭-এ আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনারকে জামিন দেন।
আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান ২৩ জুলাই ২০১৮ কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার সম্পর্কে মন্তব্যের বিষয়ে একটি মানহানির মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই জামিন দেন।
২০১৯ সালের ২০ জুন আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান ২০১২ সালের একটি হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে জামিন দেন।
১৪ অক্টোবর ২০২০ সাল-এ আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের পরিবারের সদস্যদের জামিন দিতে অস্বীকার করেন।
বর্তমানে বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান, দুর্নীতি দমন কমিশনের মাননীয় কমিশনার ও চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজকে আমরা বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান এর বিখ্যাত একটি রায় pre-emption under section 96 of the State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (SA & T Act). যে রায়টি বহুল আলোচিত এবং সর্বজনগৃহীত একটি রায় এবং রায়টি রেফারেন্স ভুক্ত হয়েছে DLR 77 (HD) 352
High Court Division
(Civil Revisional Jurisdiction)
Mr. Justice A.K.M. Asaduzzaman
Civil Revision No. 258 of 2023.
Gopal Chandra Dey ——- Petitioner
VS
Sujata Rani and others —— Opposite Parties
Judgement Date : November 30, 2023
Robin Chandra Paul, Advocate—For the Petitioner. Md. Shariful Islam, Advocate with Shafiq Rayhan Shawon, Advocate—For the Opposite Parties.
Judgment
AKM Asaduzzaman, J: This Rule was issued calling upon the opposite party to show cause as to why the judgment and order dated 15-11-2022 passed by the Additional District Judge, 2nd Court, Satkhira in Miscellaneous Appeal No.15 of 2011 sending the case back on remand after reversing the judgment and order dated 14-11-2010 passed by the Assistant Judge, Kalaroa, Satkhira in Miscellaneous Case No. 38 of 2006 dismissing the case should not be set-aside.
2. Opposite party No.1 as pre-emptor filed Miscellaneous Case No. 38 of 2006 against the pre-emptee petitioner and others before the Court of Assistant Judge, Kalaroa, Satkhira for pre-emption under section 96 of the State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (SA & T Act).
3. Pre-emptors case in short, inter alia, is that land appertaining to SA khatian No. 200, Dag No.229, land measuring 50 decimals has been owned and possessed by Ishak Dali, Sikandar Gazi and Ali Biswas, and land appertaining to SA Khatian No. 187, Dag No. 217, has been possessed by Gour Pada Daptari. The said 60 decimals land of SA khatian No.200 has been purchased by Gour Chandra Shil and Sree Grish Chandra Shil in equal shares vide kabala No. 3156 dated 27-11-1965. Thereafter Grish Chandra Shil sold and transferred 30 decimals of land in favour of Surjya Kumar Shil vide registered kabala No. 3261 dated 25-8-1993. Surjya Kumar Shil transferred 15 decimals of land in favour of the pre-emptor Sree Shujata Rani vide kabala dated 26-9-1993 and who is in peaceful possession of the land and therefore, a co-sharer by purchase. Gour Pada Shil again purchased 19 decimals of land in SA Dag No. 217 vide kabala dated 27-11-1965 and acquired peaceful possession of the land by mutating his name. While in peaceful possession of the land, Gour Pada transferred the suit property in favour of the present petitioner and took possession of the same on 5-5-2006. The pre-emptor after being aware of the sale in favour of the present petitioner obtained the certified copy of the disputed kabala and filed the instant case for pre-emption.
বিচারপতি: এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান
সিভিল রিভিশন নং ২৫৮/২০২৩
পক্ষগণ: গোপাল চন্দ্র দে (আবেদনকারী) বনাম সুজাতা রানী ও অন্যান্য (বিপক্ষ)
রায়ের তারিখ: ৩০ নভেম্বর, ২০২৩
পটভূমি
সাতক্ষীরার কালারোয়া সহকারী জজ আদালতে বিবিধ মামলা নং ৩৮/২০০৬ দাখিল করেন প্রি-এম্পটর (অগ্রক্রয়কারী) সুজাতা রানী, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬ ধারা অনুযায়ী প্রি-এম্পশনের (অগ্রক্রয়) দাবিতে।
প্রি-এম্পটরের বক্তব্য: এস.এ. খতিয়ান নং ২০০, দাগ নং ২২৯-এর জমি ইসহাক দালি, সিকান্দার গাজী ও আলী বিশ্বাসের মালিকানাধীন ছিল। এই জমি গৌর চন্দ্র শীল ও গিরিশ চন্দ্র শীল কবলা মূলে (১৯৬৫) ক্রয় করেন। পরবর্তীতে হস্তান্তর হতে হতে সুজাতা রানী ১৫ শতক জমি ক্রয় করে সহ-শরিক হন। অন্যদিকে গৌর পদ শীল এস.এ. দাগ নং ২১৭-এর জমি ক্রয় করে আবেদনকারী (পিটিশনার)-এর কাছে বিক্রি করেন, যা প্রি-এম্পটর জানার পর অগ্রক্রয় মামলা দায়ের করেন।
পিটিশনারের বক্তব্য: তিনি বিরোধপূর্ণ জমি কবলা নং ৮০৯ (৩-৪-২০০৬) মূলে ক্রয় করেছেন এবং প্রি-এম্পটরের স্বামী দিলীপ পার্শ্ববর্তী দাগে জমি ক্রয় করায় প্রি-এম্পটর কবলা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
🏛️ নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তসমূহ:
বিচারিক আদালত (সহকারী জজ):১৪-১১-২০১০ তারিখের রায়ে মামলা খারিজ করে দেন—প্রি-এম্পটর সহ-শরিক প্রমাণ করতে পারেননি এবং সংলগ্ন জমির মালিক (contiguous land holder) হিসেবে দাবি প্লিডিংয়ে ছিল না বলে ধরে নেন।
আপিল আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ, ২য় আদালত, সাতক্ষীরা): ১৫-১১-২০২২ তারিখের রায়ে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে মামলাটি পুনরায় বিচারের জন্য প্রত্যর্পণ (remand) করেন, এই মর্মে পর্যবেক্ষণ দিয়ে যে দরখাস্তের ৪ ও ৭ নং দফায় প্রি-এম্পটর প্রকৃতপক্ষে সংলগ্ন জমির মালিক হিসেবেও দাবি উত্থাপন করেছিলেন, যা বিচারিক আদালত বিবেচনায় নেয়নি।
🚻 পক্ষগণের যুক্তি
আবেদনকারীর পক্ষে (অ্যাডভোকেট রবিন চন্দ্র পাল):
– আপিল আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা না করেই স্বেচ্ছাচারীভাবে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে remand করেছে।
– যেহেতু উভয়পক্ষ ইতোমধ্যে সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিল করেছে, তাই দেওয়ানি কার্যবিধির Order 41, Rule 24 অনুযায়ী আপিল আদালতের নিজেই ইস্যু পুনর্গঠন করে মেরিটে মামলা নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার ছিল; remand-এর আদেশ বেআইনি।
বিপক্ষের পক্ষে (অ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম):
– রিভিশন দরখাস্তে remand আদেশ কেন বেআইনি তার কোনো সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড নেই।
– আপিল আদালত সঠিকভাবেই খুঁজে পেয়েছে যে সংলগ্ন জমির মালিকানার দাবি প্লিডিংয়েই ছিল, তাই remand যথাযথ।
– বিকল্পভাবে, যদি remand না-ও হয়, প্রি-এম্পটরকে অতিরিক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিলের সুযোগ দিয়ে আপিল আদালতকেই ইস্যু পুনর্গঠন করে মেরিটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।
🏛️🏛️ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত:
বিচারপতি আসাদুজ্জামান রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখেন যে আপিল আদালতের পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল—দরখাস্তের ৪ ও ৭ নং দফায় প্রি-এম্পটর সংলগ্ন জমির মালিক হিসেবেও দাবি করেছিলেন, যা বিচারিক আদালত ইস্যু গঠনের সময় এড়িয়ে গিয়েছিল।
তবে মূল আইনি প্রশ্ন ছিল remand-এর বৈধতা নিয়ে। আদালত Order 41, Rule 24, সিপিসি উদ্ধৃত করে ব্যাখ্যা করেন যে, রেকর্ডে বিদ্যমান সাক্ষ্যপ্রমাণ যদি আপিল আদালতের রায় দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়, তাহলে আপিল আদালত ইস্যু পুনর্গঠন করে নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে—বিচারিক আদালতের রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিত্তিতে হলেও।
আইনের এই বিধান অনুযায়ী আদালত সিদ্ধান্তে আসেন যে, নিম্ন আদালত ইস্যু বাদ দিলেও তা আপিল আদালতের নিজেরই পুনর্গঠন করে মেরিটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ—এটি মামলা remand করার কারণ হতে পারে না। সুতরাং আপিল আদালতের remand আদেশ আইনসঙ্গত নয়।
✅ চূড়ান্ত আদেশ
1. রুল অ্যাবসোলিউট (Rule Absolute) করা হলো এবং আপিল আদালতের রায় ও আদেশ বাতিল (set-aside) করা হলো।
2. আপিল আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হলো—ইস্যু পুনর্গঠন করে, উভয়পক্ষকে মৌখিক ও দালিলিক অতিরিক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিলের সুযোগ দিয়ে, দ্রুততম সময়ে মেরিটে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।
3. পূর্বে প্রদত্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার (recall/vacate) করা হলো।
4. নিম্ন আদালতের রেকর্ড (LCR) রায়সহ অবিলম্বে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।
Md.Mizanur Rahman (Kayes)
Advocate Bangladesh Supreme Court
01836-796699
#JusticeAKMAsaduzzaman
#বিচারপতি_একেএম_আসাদুজ্জামান
#SupremeCourtBD
#BangladeshSupremeCourt
#HighCourtBD
#BangladeshJudiciary
#বাংলাদেশ_সুপ্রিম_কোর্ট #advocate #lawyer @topfans