স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি)-এর উদ্যোগে এক আন্তরিক, সুশৃঙ্খল ও তাৎপর্যপূর্ণ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড মোড়স্থ আলী প্লাজার তৃতীয় তলায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মুহাম্মদ বাবুল হোসেন বাবলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের মহাসচিব এম নজরুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক এস এম খোরশেদ উল্লাহ রজায়ী, বাগেরহাট জেলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোল্লা মোঃ সরোয়ার হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম ফরাজী, বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেহ উদ্দিন বাহার, সাংবাদিক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বেলালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জাফরুল ইসলাম জাহিদ, সাংবাদিক মোঃ শহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হাসান মোস্তফা, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাজেদ, মোঃ শহিদুল ইসলাম লিটন, ফারুক আহমেদ ঢালী, মো. শামসুদ্দিন, মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নূরুন্নবী, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মো. শফিকুর রহমান, রাজিব নাথ, মোহাম্মদ হালিম নিরব, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
ঈদের এই মিলনমেলায় উপস্থিত সাংবাদিকরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের চলমান গণমাধ্যম পরিস্থিতি, পেশাগত চ্যালেঞ্জ, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে গঠনমূলক আলোচনা করেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির পরিচিতি সভা/অভিষেক অনুষ্ঠান অদূর ভবিষ্যতে আয়োজনের বিষয়ে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান দায়িত্বের পেশা। সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা—এই তিনটি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে গণমাধ্যম। এ ধরনের পুনর্মিলনী আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, “ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজই একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমের ভিত্তি। বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব সবসময় পেশাগত উন্নয়ন, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে আপসহীন থাকবে এবং ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।”
অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর। অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন এক স্মরণীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শেষে সাংবাদিকদের পেশাগত নীতিমালা প্রসঙ্গে বক্তারা গুরুত্বারোপ করে বলেন— সত্যনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও মানবিকতা একজন সাংবাদিকের প্রধান শক্তি। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ নয়, বরং দায়িত্বশীলতার সাথে তথ্য উপস্থাপনই হতে হবে মূলনীতি। গুজব ও অপপ্রচার থেকে দূরে থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করাই সাংবাদিকতার আসল চেতনা। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা হতে হবে দৃঢ়, সাহসী ও জবাবদিহিমূলক।