বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন, রিপোর্টার:
বিশ্বব্যাপী কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে Desh-Bondhu Remittance Warrior Parliament International (দেশ-বন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ – ইন্টারন্যাশনাল) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে নানা বৈষম্য, অনিরাপত্তা ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছেন। এসব সমস্যা সমাধান এবং তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়েছে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবি:
১। বিশ্বব্যাপী সকল রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্বের জন্য একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং ১০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) নিয়োগ দিতে হবে। এই প্রতিনিধিরা সরাসরি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
২। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ পেনশন স্কিম চালু করতে হবে।
৩। সাবেক রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
৪। দেশের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
৫। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবন ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। রেমিট্যান্স কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে— মোট রেমিট্যান্স আয়ের কমপক্ষে ২% দিয়ে একটি বিশেষ তহবিল তৈরি করে বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে পূর্ণ সহায়তা দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব:
প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক:
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা:
এম. এ. রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব:
কেন্দ্রীয় কমিটি
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রতিনিধিরা:
সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী প্রতিনিধিরা—
ফারুক আহমেদ চৌধুরী (যুক্তরাজ্য), শফিক (যুক্তরাজ্য), আবুল কালাম (দুবাই), রেজা নবী (আমেরিকা), ডা. মালেক ফারাজী (ফ্রান্স), রেজা আবু সাঈদ (ইতালি), ক্লিনটন হাওলাদার পাভেল (আমেরিকা), হেলাল উদ্দিন (কাতার), হাকিকুল ইসলাম খোকন (আমেরিকা), সৈয়দ খালিদ মিয়া অলিদ (যুক্তরাজ্য), জসিম উদ্দিন (কাতার), রাকিব আলী (সৌদি আরব), বশির (কুয়েত), মোঃ আরব আলী (কুয়েত), হেলাল আহমেদ (সৌদি আরব), অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন (যুক্তরাজ্য), বদরুল আলম (যুক্তরাজ্য), আসিফ ইকবাল (মালদ্বীপ), আবুল বাশার (মালদ্বীপ), সাফালি (মালয়েশিয়া), স্বপন (মালয়েশিয়া), হাসান খান (সিঙ্গাপুর), শাফালি খান (মালয়েশিয়া), নাজমা (যুক্তরাজ্য), নির্জা সুমন (ফ্রান্স), শাহা আলী (জাপান), কিবরিয়া (ইতালি), আব্দুল জলিল (যুক্তরাজ্য), ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী (যুক্তরাজ্য), লুৎফর (যুক্তরাজ্য), খসর হোসেন (অস্ট্রেলিয়া), মোঃ আব্দুল রউফ (কাতার), অ্যাডভোকেট ঈসা (যুক্তরাজ্য) সহ আরও অনেকে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্ত রয়েছেন—
আব্দুল রহিম, ইসমাইল খান, বিদ্যুৎ, রানিসা, মাহিসা, নাসরিন, নাজনিন রহমান, রিপন, আব্দুল লতিফ, আব্দুল কাইয়ুম, ডা. শরীফ শাকী, বকুল, মেজর ইমরান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সিরাজ, অ্যাডভোকেট আবেদ, অ্যাডভোকেট নজরুল, মনির, মোহাম্মদ ফজলুল হক, আলিয়া বেগম, হেলাল খান, কর্নেল ফেরদৌস, আব্দুল কাদির জিলানী, লাহাকোট হাসান, নাসরিন আক্তার তরফদারসহ অনেকে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি হলেও তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ঘোষিত ছয় দফা বাস্তবায়ন হলে প্রবাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।