শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
প্রেস বিজ্ঞপ্তি “আমরা বাংলাদেশে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখতে চাই না—পানি ঘোলা করে মাছ শিকারের পায়তারা বন্ধ করুন, সংস্কার নিয়ে সমঝোতায় আসুন। পরিবেশ সুরক্ষা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:  আবদুল লতিফ জনি। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা,আহত-১। প্রেসক্লাব ইউনিটি’র আহবায়ক হলেন মোঃ দুলাল মিয়া, সদস্য সচিব – নূরুন নাহার: সর্বস্তরের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা। ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় যানজট নিরসনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। নাচোল থানার হাল ধরলেন ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ। খুলনায় জেলা প্রথম নারীপ্রশাসকের যোগদান -হুরে জান্নাত। বান্দরবানে নবাগত জেলা প্রশাসকে ফুল দিয়ে বরণ ও বিদায়ী জেলা প্রশাসকের সাথে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ। মনোহরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারী আটক, ইয়াবা উদ্ধার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের উপর নিপীড়ন পুরো দুনিয়াকে হতবাক করেছে – হাবিবে মিল্লাত।

পরিবেশ সুরক্ষা সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:  আবদুল লতিফ জনি।

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:

   সোসাইটি ফর দি এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি বলেছেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের পরিবেশ। দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে, কোন কোন বিষয়ে দ্রত পদক্ষেপ নিতে হবে তা তুলে ধরেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সোসাইটি ফর দি এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট আয়োজিত পরিবেশ রক্ষায় করনীয় শীষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৭ টি বিষয়ে তুলে ধরেন।  

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল লতিফ জনি বলেন, গত ১৭ বৎসর সারা বাংলাদেশে লুটপাট ও দখলের রাজত্ব কায়েম করে পাহাড়, বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে এবং নদীগুলো ভরাট করে নদীমাতৃক বাংলাদেশের হাজার বছরের বহমান নদীগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে আজ বাংলাদেশের পরিবেশ ভারসাম্যহীনতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে। নদী ভরাটকারী, পাহাড় ধ্বংসকারী, বন উজারকারী ইটের ভাটা তৈরি করে, এসব পরিবেশ দূষণ কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে, সেদিন বেশি দূরে নয় বাংলাদেশের উর্বর ফসলীক্ষেত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৎস্য প্রজনন স্থান এবং বনে বসবাসকারী প্রাণীসম্পদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের  প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) এবং সরকারেন মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উল্লেখিত বিষয়গুলোকে প্রধান্য দিয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির সাবেক ১ নং সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি পরিবেশ সুরক্ষায় ১৭ টি বিষয়ে তুলে ধরেন।

১) ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে নির্মিত কাঁচপুর ব্রীজ থেকে কুমিল্লার গোমতী নদীর উপর নির্মিত দাউদকান্দি ব্রীজ পর্যন্ত যতগুলো নদী বহমান ছিল, একমাত্র মেঘনা নদী ছাড়া, মেঘনা নদীর শাখা নদীগুলো ভরাট করে বসুন্ধারা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও অন্যান্য শিল্প গ্রুপ এসব শাখা নদী গুলো ধ্বংস করে তাদের নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। যার ফলে নদী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে নদী ধ্বংস করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কি উপকার হচ্ছে তা জাতির সামনে বড় প্রশ্ন। ঠিক একই ভাবে গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী, সুরমা, কুশিয়ারা, গোমতি, ডাকাতিয়া, কাঁকড়ি ও নাফ নদীর শাখা নদী গুলো এবং সিলেটের ঐতিহাসিক জলাশয়গুলো (হাওড়) বিভিন্ন কোম্পানী ও ব্যক্তির নামে ইজারা নামক প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে মাটি ভরাট করে ধ্বংস করে চলছে। বর্তমান নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা জনাব তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) ও মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের গর্ব বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ১৯৫২ সালের ভূমি নকশা অনুযায়ী হাওর-বাওড়, খাল-বিল, পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন, বাংলাদেশের মানুষ এই প্রত্যাশা করে।

২) অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে নদীমাতৃক বাংলাদেশের যখন তার নিজস্ব পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল তখন বাংলাদেশের নদীগুলোকে তাদের নিজস্ব রূপ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষক এবং রণাঙ্গনের ‘জেড’ ফোর্সের সর্বাধিনায়ক মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী বীর, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ফেনী নদীর মোহনায় মুহুরী প্রকল্প এবং ছোট ফেনী নদীর মোহনায় মুছাপুর ব্যারেজ প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পগুলো সমুদ্রের নোনা পানির জোয়ারের সময় ফসলের যাতে ক্ষতি না হয় এবং শুকনো মৌসুমে মিঠা পানি জমিয়ে রেখে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। যার ফলে ফেনী, নোয়াখালী ও চট্রোগ্রামের অনেক অঞ্চলে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং ধান উৎপাদনে এই অঞ্চল স্বনির্ভর হওয়ার সফলতা লাভ করে। জোয়ারের সময় নোনা পানির তীব্র আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় মানুষ ফসল উৎপাদনে সফলতার গৌরব অর্জন করে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি’র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিস্তা সেচ প্রকল্প এর কাজ শুরু করেন, এই প্রকল্পের জন্য আজ উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর খরাপীড়িত এলাকা হওয়া সত্বেও ফসল উৎপাদন করে দেশের উৎপাদিত ফসলের মাধ্যমে দেশীও খাদ্য চাহিদার যোগান দিচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক যুগান্তকারী পদক্ষেপ খাল খনন প্রকল্প ও নদী খনন প্রকল্প অব্যাহত থাকলে আজ বাংলাদেশের নদীগুলো সচল থাকতো। তাই খাল খনন প্রকল্প এবং নদী খনন প্রকল্প পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছি।
৩) ভারত আন্তর্জাতিক নদী আইন অমান্য করে ফারাক্কা বাঁধ এবং সুরমা নদীর উপর টিঁপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করে যা বাংলাদেশের নদী এবং জলাশয়গুলো ধ্বংসের একটি বড় কারণ। ন্যায্য জলবন্টন চুক্তি না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে ভারত একতরফা প্রচুর পরিমান পানি গঙ্গা থেকে সরিয়ে নেয়, ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানি প্রবাহের চরম অবনতি ঘটে। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ন্যায্য জলবন্টনের জন্য মজলুম জননেতা মরহুম আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তার বৃদ্ধ বয়সেও “ফারাক্কা লং মার্চ” করেন। আমরা বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য মজলুম জননেতা মরহুম আব্দুল হামিদ খান ভাসানী’র কণ্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বর্তমান নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্মানিত চেয়ারম্যান) জননেতা জনাব তারেক রহমান ও সরকারের মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এর কাছে ফারাক্কা বাঁধের ন্যায্য জলবন্টন চুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
৪) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থাপত্য বিভাগের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও সম্মানীত সেনা কর্মকর্তা জনাব মেজর জেনারেল (অব.) আবু সাঈদ মোঃ মাসুদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম এ মহি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রফিকুল্লাহ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাজ্জাদ হোসেন এদের নেতৃত্বে  ঢাকার প্রাণকেন্দ্র রামপুরা থেকে গুলশান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও মগবাজার রাস্তা পর্যন্ত বিশাল জলাধার শক্ত হাতে দখলমুক্ত করে হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাতিরঝিলে দৃষ্টিনন্দন পার্ক, নান্দনিক জলাশয় ও পরিবেশ বান্ধব রাস্তা তৈরি করে ঢাকা শহরের যানযট নিরসনে এবং জনবহুল এই নগরের মানুষের অবসরে নিঃশ্বাস ফেলার ব্যবস্থ্যা করেছেন তা জাতি শ্রদ্ধাভরে অজীবন স্মরণ রাখবে।
৫) হাতিরঝিলকে যেভাবে দখলমুক্ত করে দৃষ্টিনন্দন পার্ক, নান্দনিক জলাশয় ও পরিবেশ বান্ধব রাস্তা তৈরি করেছে ঠিক সেরূপ ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সেনানিবাস ও সাভারের ঐতিহ্যবাহী সেনানিবাস এর মাঝখানে যে বিশাল আশুলিয়া জলাধার, যা গাজীপুরের কোনাবাড়ী ব্রীজ থেকে ঢাকা মিরপুরের গাবতলী ব্রীজ পর্যন্ত জলাধারকে অবৈধ (গত ১৭ বছর) দখল করে যারা নিজস্ব বাংলোবাড়ী, ক্লাব এবং বিনোদন কেন্দ্র (রির্সোট) তৈরি করেছে তাদের থেকে এই জলাধার পুনরুদ্ধার করে বর্তমান নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্মানিত চেয়ারম্যান) জননেতা জনাব তারেক রহমান ও সরকারের মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ এবং বাংলাদেশের প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ কে কাজে লাগিয়ে হাতিরঝিলের অনুরূপ দৃষ্টিনন্দন পার্ক, নান্দনিক জলাশয় ও পরিবেশ বান্ধব রাস্তা তৈরি করে ঢাকার মত দূষিত পরিবেশ দূর করে নগর জীবনকে সবুজ শ্যামল এবং দূষনমুক্ত পরিবেশ উপহার দিবেন এই দাবি জানাচ্ছি।
৬) তুরাগ, বালু, বুড়িগঙ্গা, মেঘনা ও শীতালক্ষ্যা নদীর শাখা নদীগুলো এবং জলাশয়গুলো যারা অবৈধভাবে বালু ভরাট করে জলাশয় ভরাটের নিষিদ্ধ আইন-(আপোষহীন নেত্রী বাংলাদেশের তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এর  প্রণীত আইন) অমান্য  করেছে তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।       
৭) বসুন্ধারা গ্রুপ, আমিন মোহাম্মাদ গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, আসিয়ান সিটি নামক প্রতিষ্ঠানগুলো তুরাগ, বালু, বুড়িগঙ্গা, মেঘনা ও শীতালক্ষ্যা নদীর শাখা নদীগুলো ভরাট করে তাদের নিজস্ব নগরায়ন প্রকল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে এবং নদীগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায় আমেরিকান দূতাবাসের সামনে থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জলসিড়ি প্রকল্প পর্যন্ত নির্মিত ১০০ ফিট রাস্তায় নদীর উপর অবস্থীত ব্রীজ আছে কিন্তু নদী দৃশ্যমান নাই।  বিশেষ করে বসুন্ধারা গ্রুপ, আমিন মোহাম্মাদ গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ নদী, শাখা নদী, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রদর্শীত আর্দশ ও নীতিকে অমান্য করে নদীমাতৃক বাংলাদেশের ধ্বংস করছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে পরিবেশ দূষণ করছে।
৮) গত ১৭ বৎসরে গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, পূর্বাচল, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় যে সকল প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি।
৯) গুলশান, বনানী, বারিধারায় নির্মিত ভবনগুলোর ১০ তলার উপরে বহুতল ভবনের নির্মানের অনুমতি গত ১৭ বছর কাদেরকে দেওয়া হয়েছে এবং কিভাবে দেওয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
১০) গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকায় ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য সিভিল এভিয়েশন ও আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আইন মেনে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানী বহুতল ভবন নির্মান করেছে কি না, যদি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আইন মেনে ভবন নির্মান না করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আাইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
১১) গত ১৭ বৎসরে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানী গুলশান, বনানী, বারিধারায় এবং পূর্বাচলে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মান করেছে, তাহা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন আছে কি না? যদি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়ে থাকে তাহা রাজউকের আইন মেনে অনুমোদন দেয়া হয়েছে কি না? যদি রাজউকের আইন অনুযায়ী নির্মিত না হয়ে থাকে, তাহলে অনুমোদনকারী কর্মকর্তা ও বহুতল ভবন নির্মানকারী ডেভেলপার কোম্পানী ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
১২) গুলশান-১ থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত রাস্তার পাশে যে সকল বহুতল ভবন নির্মান করা হয়েছে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন আছে কিনা এবং রাজউকের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হয়েছে কিনা, তা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করেনা, কারন অধিকাংশ বহুতল ভবন রাস্তার ফুটপাতগুলো দখল করে নির্মান হয়েছে এবং হচ্ছে। এই বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১৩) রাজউক এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানী কে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য যে অনুমোদন দিয়েছিলেন সেই অনুমোদন অনুযায়ী বহুতল ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে, যদি রাজউক এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদনের নকশার বাহিরে কোন বহুতল ভবন নির্মান করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং নকশার বহির্ভূত ভবন ভেঙ্গে ফেলার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
১৪) সম্মানিত বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্তক মন্ত্রী, রাজউকের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যারা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আইন অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মান করেছে এবং এখনো অনেকে নির্মাণ করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
১৫) গত ১৭ বৎসরে দখল ও লুটপাটের যে মহোৎসব হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং পূর্বাচল এ প্লট দখল করে ভুয়া মালিক সাজিয়ে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানী বহুতল  ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তাই গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং পূর্বাচল এর মালিকানার সঠিক তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক তাহলে  বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না।
১৬) সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা জনাব তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) এবং মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের র্গর্ব স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বিশেষ করে নৌবাহিনীর প্রধানের প্রতি আমাদের দাবি এই যে, নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদী দখলের কারনে অনেক নদী বিলীন হওয়ার পথে, তাই নদীগুলো ১৯৫২ সালের ভূমি নকশা অনুযায়ী উদ্ধার করার জন্য বর্তমান নির্বাচিত সরকার কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।  
১৭) সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা জনাব তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) এবং মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং সাহসী হিসেবে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছেন।

আমরা আশা করবো গত ১৭ বৎসরে যতগুলো অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ড গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, পূর্বাচল ও তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সংঘটিত হয়েছে সেই ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন, এই তদন্ত কমিটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থাপত্য বিভাগ, রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্থাপত্য বিভাগ এবং বাংলাদেশের প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে এবং এই তদন্ত কমিটি সুষ্ঠু তদন্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন প্রদান করবেন ঐ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার কে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানাচ্ছি।   

আব্দুল লতিফ জনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বনভূমি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্তরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব হবেনা। ঠিক একই ভাবে নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওড় এবং জলাশয় রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী তিন বারের বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক গৃহীত পাশকৃত জলাশয় আইন  অনুসৃত নীতির প্রতি শ্রদ্ধারেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বর্তমান সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর মর্জি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category