রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
Headline :
ঢাকায় নিখোঁজ চাঁদপুরের কলেজছাত্রী নাজমা আক্তার, রহস্যময় বার্তায় দুর্ঘটনার দাবি জেমস আব্দুর রহিম রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক আদিতমারীতে পুকুরে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু, রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সফল অভিযান। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মিরপুরে জরুরি সভা বিশেষ প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলার সংবাদ: গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি। গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে রত্নাই সড়ক সেতুর উদ্বোধন করলেন—ত্রাণমন্ত্রী দুলু। লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪ বীর মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন খাঁনকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেএসএফ-শত বাংলাদেশ হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন খাঁনকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেএসএফ-শত বাংলাদেশ হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত মকবুল হোসেন, সিনিয়র রিপোটার পরকীয়া ও ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে—মসজিদ কমিটির নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত! আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২

তেরখাদা উপজেলা জামায়াতে কর্মী সমাবেশ (দৈনিক বাংলার সংবাদ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সোহেল রানা )

Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

তেরখাদা উপজেলা জামায়াতে কর্মী সমাবেশ
(দৈনিক বাংলার সংবাদ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সোহেল রানা )
নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি: মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগকে যে সব অভিযোগে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও প্রায় একই পথে এগোচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণ আবারও ফিরে এসেছে। শুধু দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে, কাজ একই রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা-পয়সা, মাস্তানি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ছাড়া সাধারণ দ্বীনদার ও সৎ মানুষদের নিয়ে ১১ দলের পক্ষে যে জোয়ার তৈরি করেছিলাম, তা শুধু তেরখাদায় নয়, সারা বাংলাদেশে হয়েছিল। মানুষ চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ। চেয়েছিল ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন হবে না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি হবে না, বিদেশে অর্থ পাচার হবে না এবং অন্যায়ভাবে কাউকে জেল-জুলুম, হত্যা, মামলা, রিমান্ড বা আয়নাঘরে নেওয়া হবে না।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তেরখাদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তেরখাদা উপজেলা আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি, সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ হাসানের পরিচালনায় কর্মী সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আমীর মাওলানা মুহা. এমরান হুসাইন, নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক স ম এনামুল হক, জেলা অফিস সেক্রেটারি মো. আশরাফুল আলম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা লাবীবুল ইসলাম, তেরখাদা উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এম এ হাফিজ, সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, মাহফুজুর রহমান, আকতার ফারুক, মাওলানা গোলাম রব্বানী, মাওলানা আব্দুস সালাম জাহেদী, তেরখাদা সদর থানা ছাত্রশিবির সভাপতি মিল্লাত হোসেন প্রমুখ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরের মধ্যে বিভিন্ন দল ক্ষমতায় এসেছে। মানুষ তাদের দেখেছে। সবার মধ্যেই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ ছিল। তাই মানুষ ভেবেছিল, ইসলামপন্থী ও আল্লাহওয়ালা মানুষকে একবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়ে দেখা যাক। এ আস্থার কারণেই গত নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে নির্বাচনী ঐক্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে মাওলানা সাখাওয়াত সাহেবকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে সমর্থন দেওয়া হয়। এতে প্রচারের সময় প্রতীক পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঈমানদার মুসলমান কখনো হতাশ হয় না। তবে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তাঁর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণ আবারও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ খারাপ, বিদায় করো ফ্যাসিবাদ’—এই স্লোগান দিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। যে যে দোষে তাদের বিদায় করেছিলাম, প্রায় সেই লাইনেই তো যাচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ছয় মাসকে অল্প সময় বলা হলেও তিনি তা মানতে নারাজ। ইংরেজি প্রবাদ ‘Morning shows the day’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনের সকাল দেখেই যেমন দিন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি ছয় মাসও কম সময় নয়।

কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, গরিব মানুষ ও সাধারণ পরিবারের অভাব দূর করার কথা বলা হলেও এখন দলীয় বিবেচনায় তালিকা তৈরির অভিযোগ উঠছে।

তিনি বলেন, বিএনপির বাইরে অন্য দলের মানুষের নাম তালিকায় না রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মসজিদের ইমাম-খতিবদের সম্মানী, ভাতা, রাস্তাঘাট, কাবিখার অর্থসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা দলীয়করণের অভিযোগও করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ তো ওইটাই করতেছিল। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারও কার্ড থাকবে না, কারও ভাতা হবে না—এমন দলীয়করণের বিরুদ্ধেই তো বিএনপির সঙ্গে আমরা রাজপথে সংগ্রাম করেছি।

খুলনার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সরেজমিনেও বিভিন্ন এলাকার অবস্থা দেখেছেন। তাঁর দাবি, রূপসায় ঘরে ঘরে সন্ত্রাস ও মাস্তানি বেড়েছে। অস্ত্র নিয়ে সংঘাত চলছে। তিনি ‘বি কোম্পানি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন মানুষ চেয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি। ‘আমরা যা বদলাতে চেয়েছিলাম, বদলও হয়নি। একই দিকে দেশ ধাবিত হচ্ছে। শুধু দলের নামটা বদলেছে, কাজ একই আছে।’

বক্তব্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান থাকাকালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রায় নয় মাসে ৭২টি বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও বিচারিক বিষয়ে ৮৪টি সংস্কারের ব্যাপারে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচিত কোনো সরকার আর ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে না পারে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব, সবার সমান অধিকার, চাকরি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয়করণ বন্ধ, ভিন্নমতের ওপর মামলা-হামলা ও নির্যাতন বন্ধ, চাঁদাবাজি ও লুটপাট বন্ধ—এসব ছিল সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যাতে একই সঙ্গে দলীয় প্রধান না থাকতে পারেন, এমন প্রস্তাবও জুলাই সনদে ছিল এবং সব দল এতে একমত হয়েছিল।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় এখন অগ্রাহ্য করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ৭০ শতাংশের কাছাকাছি ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপি শুধু এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এ নিয়ে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানে নেই এবং এর আইনগত ভিত্তি নেই বলে যে আপত্তি তুলছে, তার সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘একই রাষ্ট্রপতির আদেশে একই দিনে, একই সময়ে দুটি ভোট হলো। একটি ভোট মেনে আপনি এমপি হলেন, প্রধানমন্ত্রী হলেন; আরেকটি ভোট মানবেন না, এটা কীভাবে হয়?’ তাঁর প্রশ্ন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার আদেশ যদি অবৈধ হয়, তাহলে ওই একই আদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা। কিন্তু সেটি করা হয়নি। একই সঙ্গে ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথাও ওই আদেশে বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ছয় মাস বা ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। সেপ্টেম্বরেই এ সময়সীমা শেষ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজির নেই যে কোনো দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ একটি গণভোটে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সেই রায় বাতিল করে দেয়।

বিএনপির ৩১ দফার কথাও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিশন গঠনের কথা তাদের ৩১ দফার প্রথম দফাতেই বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন ক্ষমতায় গিয়ে মৌলিক সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক পরিবর্তনের ১০টি বিষয়ে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি জুলাই সনদের কিছু বিষয় মানতে চাইলেও ১২ থেকে ১৪টি মৌলিক বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, এসব পরিবর্তন না হলে সংবিধানের ফ্যাসিবাদী চরিত্র দূর করা সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতে নির্বাচিত কোনো সরকার যাতে আরেকটি ফ্যাসিবাদী সরকারে পরিণত হতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন জরুরি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি সেই দলের প্রধান থাকতে পারবেন না—এমন প্রস্তাব জুলাই সনদে সব দল মেনে নিয়েছিল।


More News Of This Category