( ক্রাইম রিপোর্টের মোঃ সোহেল রানা )
খুলনা সিটি কর্পোরেশন-এর নতুন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দায়িত্ব নিয়েই নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশনের সীমিত সামর্থ্য নিয়েও ভোর ৬টার পর থেকে ক্লিনারদের সঙ্গে সরাসরি ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকি করবেন। তার ভাষায়, আমি ঘুমাব কম, কাজ করব বেশি। আমি দেখতে চাই আমার কর্মচারীরা কতখানি সঠিকভাবে কাজ করে।
রবিবার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে আয়োজিত দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও বিদায়ী প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান নতুন প্রশাসক। তিনি বলেন, উন্মুক্ত আবর্জনা রেখে নাগরিকদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হবে না। বর্জ্য প্যাকেটজাত করে ঢেকে রাখা, রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে তা সারে রূপান্তর এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “উন্মুক্ত আবর্জনা থাকবে না—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। শহরের যেসব স্থানে আবর্জনার স্তূপ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত প্যাকেট করে ঢেকে রাখতে হবে। খোলা রেখে মানুষের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কিছু কাজ আছে যা নাগরিকদেরই করতে হবে। শহরকে বাসযোগ্য রাখতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই মাঠমুখী প্রশাসনের বার্তা দিয়েছেন কেসিসির নতুন এই প্রশাসক। তার ঘোষণায় নগরবাসীর প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, ড্রেনের ময়লা ও উন্মুক্ত আবর্জনার সমস্যা সমাধানে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি মিলবে। নগর ভবনের মঞ্চ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে খুলনাবাসী