অথই নূরুল আমিন
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, নব্বই দশকে এরকম নাম নিয়ে যখন আমরা কয়েকজন লেখালেখি শুরু করলে নামটি আগে পিছনে করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী । এই জামায়াতে ইসলামী কিন্তু বাংলাদেশে বিএনপি,আওয়ামী লীগের কাঁধে বর করেই এত দুর এগিয়ে এসেছে। তবে কারো বশ্যতা তারা স্বীকার করেনি। তারা তাদের নীতিমালা নিয়েই চলতে পছন্দ করে সবচেয়ে বেশি । তবে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ কিন্তু অনেক আগে থেকেই। যদিও বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির সীমাহীন জনপ্রিয়তার কাছে তারা বারবার হেরে গেছে।
তবে চুয়ান্ন বছর পরে একটি নাটকীয় নির্বাচনে তাদের ভোট বেড়েছে হাজার গুণ। যদিও তা ক্ষণস্থায়ী। এই সকল ভোট বা ভোটারদেরকে পরবর্তীতে আর খোঁজে পাওয়া যায় না। তার প্রমাণ হলো জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের সাথে পরগাছার মত ষোল বছর থাকার পর তাদের ভোটার আজকে নেই বললেই চলে।
তবে জামায়াতের অসংখ্য দোষের মধ্যে, সবচেয়ে ভালো কয়েকটি গুণ রয়েছে। আর সেটা হলো জামায়াতের দলীয় শৃঙ্খলা খুবই সুন্দর। এবং দেশের শিক্ষিত লোকদের একটি রাজনৈতিক দল জামায়াত। তবে জামায়াতের বেলায় ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু বিতর্ক রয়েছে। তার প্রথমটা হচ্ছে ” জান্নাত ” এই জান্নাত শব্দটা খুবই বিতর্কিত করে দেয় জামায়াতকে। এবং এই কথার বিপক্ষে বিরোধী দল ভোটারদের কাছে যুক্তি উপস্থাপন করতে সক্ষম হোন বারবার।
অন্য দিকে তাদের সাথে যে আরো দশটি দল রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি দলের ২% ভাগ ভোটও সারা দেশে নেই বললেও চলে । বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপি তাদের মধ্যে অন্যতম। তাদেরও নেই তেমন ভোট। ২০২৬ শের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়ে গেছে । তাই এখানে ভোটারেরা ছত্রভঙ্গ ভাবে ভোট প্রয়োগ করেছেন বিভিন্ন মার্কায়ষ। ভবিষ্যতে কখনও যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। এবং আওয়ামী লীগসহ যদি সকল দলের অংশ নেয়ার সুযোগ থাকে। তাহলে জামায়াত দশটি আসনও পাবে না। তার কারণ ভোটারেরা একজন প্রার্থীকে যে কয়টি যোগ্যতা দেখে ভোট প্রয়োগ করেন। জামায়াতের মাঝে এখনো সেই রকম যোগ্য প্রার্থী নেই বললেই চলে। এখানে আরো দক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া তাদের জন্য জরুরি।
এছাড়া গত ষোল বছর শেখ হাসিনা এই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে জনগণের কাছে এমনকি নিজ দলের ৮০% নেতাকর্মীদের কাছে যখন মূল্যহীন হয়ে পরেন । ঠিক এই সময় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র জনতা এবং বিদেশী যড়যন্ত্র কারীরা হাসিনাকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এদিকে ৫ ই আগস্টের পর থেকে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রচার – প্রচারণা করতে থাকে অনায়াসে। যার ফলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকেরা জামায়াতের সাথে যোগ দিতে শুরু করে এবং ভোট দেয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ক্ষমতায় আসার মত যে সুযোগ তারা এই ইউনূস সরকারের আমলে পেয়েছিল। এরকম আরেকটি সুযোগ পেতে তাদের কত বছর সময় লাগবে, তা বলা মুশকিল। বতর্মান বিএনপি সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে যদি বাধ্য হয়। তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায় জামায়াত ও এগারো দলীয় জোট নিশ্চিত ক্ষমতায় আসবে। আর বিএনপি যদি সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। আর যদি পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারে বিএনপি সরকারের মেয়াদ। তাহলে বিএনপিই পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসবে এটাও নিশ্চিত করে বলা যায়। বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচন না দিলে তখন কিন্তু বিভিন্ন কারণে এগারো দলীয় জোট ভাঙ্গন শুরু হতে পারে। তখন জামায়াত আরো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই বলেছি জামায়াতের হাতে খালি নাটাই আছে। ঘুড়ি নেই আকাশে। বাতাসের গতিও ধীরগতিতে। জামায়াত ছদ্মবেশেই এগিয়েছে এত দুর! ভবিষ্যত তাদের নীতিনির্ধারক মহলের হাতে। তবে বিদেশী খেলোয়াদের কাছে আজও জামায়াত নাবালক। ২০২৬ শের নির্বাচনে তিন কোটি ভোটার এগুলোর কোনো হিসাব থাকবে না যদি পাঁচ বছর পর আরেকটি জাতীয় নির্বাচন হয়।
কথা থাকে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র জামায়াতের অনেক অহংকার লক্ষ করা গেছে। দ্বিতীয়ত : তাদের নির্বাচন পরিচালনা যথাযথ হয়নি। এবং তাদের ইশতেহারও পছন্দ হয়নি বেশিরভাগ ভোটারদের। তবে জামায়াতে ইসলাম আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে যদি স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোট আমানত থাকে। আর জাতীয় নির্বাচনের ভোট জোয়ার ভাটায় চলে। তবে আমার বিশ্বাস যেকোনো ইসলামী দল ক্ষমতায় আসলে পরিবারতন্ত্র দলগুলো থেকে দেশ ও জনগণ ভালো চলবে। কারণ আমি নিজেও পরিবারতন্ত্র রাজনীতি বিরোধী।
এদিকে বিএনপি দেশের চাদাবাজী, লুটপাট,জলদস্যু- ভূমিদস্যু,থামিয়ে রাখতে চরম ব্যর্থতার প্রমাণ দিলে সেখানে “মার্শাল ল ” জারি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন দেশের হাল চলে যাবে সেই এরশাদ যুগের মত।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
( আজকের লেখাটি নেত্রকোনা সদর থেকে লেখা )
২৩. ফেব্রুয়ারি ২০২৬