রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
Headline :
মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। গ্রামে থাকতে পারেননি ১৭ বছর নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন গড়তে চান চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ‘মডেল’ ৬নং সুইয়ার ইউনিয়ন। কুড়িগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে ২ মণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। রংপুরে নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ: লালমনিরহাটে মানববন্ধন ও ৩ দিনের আলটিমেটাম ‎ চিত্রা নদীতে হারিয়ে যাওয়া ফরহাদের লাশ উদ্ধার। স্বাধীনতা নাকি অনুমতির শৃঙ্খল। ​সোনামসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির বড় সাফল্য ভারতীয় ট্রাকসহ প্রায় ৬ হাজার বোতল মাদক সিরাপ জব্দ। শ্রীবরদীতে বিলের পাড় থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

গ্রামে থাকতে পারেননি ১৭ বছর নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন গড়তে চান চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ‘মডেল’ ৬নং সুইয়ার ইউনিয়ন।

Reporter Name / ৯ Time View
Update : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

গ্রামে থাকতে পারেননি ১৭ বছর নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন গড়তে চান চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ‘মডেল’ ৬নং সুইয়ার ইউনিয়ন।

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সাংবাদিক দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি

রাজনীতির কঠিন পথ পাড়ি দিতে গিয়ে জীবন হারিয়েছেন অনেক কিছু। বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনে অসংখ্য মামলা আর প্রতিদিন আদালতে হাজিরা দিতে দিতেই কেটে গেছে জীবনের সোনালী সময় গুলো,এমনকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নিজের মায়ের মৃত্যুতে দাফনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি,ভাইয়ের জানাযা দাফন থাকতে পারেনি,জুলাই আগসক ছাত্র জনতা আন্দোলনে গুম থাকা অবস্থায় সন্তান হারিয়েজে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংকৃকিত সম্পাদক মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন। তবুও হার মানেননি তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই লড়াকু নেতা। দলের প্রতি অবিচল থেকে সব ঝড়-ঝাপটা মোকাবিলা করে আজ তিনি হাটনাইয়া এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন ৬নংসুইয়ার ইউনিয়ন নিয়ে তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন, ০৬নং ইউনিয়নকে হাটনাইয়া গ্রামে মধ্যে একটি অন্যতম সেরা আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যেখানে থাকবে না কোনো মাদক, দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজি। বিশেষ করে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা চাঁদাবাজি করে, তবে তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। নারীদের নিরাপত্তায় ইভটিজিং মুক্ত এলাকা গড়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
গোলাম ফারুক তানভীর জীবনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৪ সালে যখন আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে দেশ উত্তাল, তখন যে ৫ জন ব্যক্তি রাজপথে ও+ গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান, রুহুল কবির রিজভী এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সে’সময়র বিএনপিনেতা জীবনের নামও তখন আলোচনায় আসে। দলের দুঃসময়ে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যখন সাবেক ফেসিস প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান,তখন আদাবর এলাকায় বিশৃঙ্খলা রোধে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন জীবন। তিনি আদাবরের সকল সহযোগী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপিকে একটি সুশৃঙ্খল পরিবার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে গোলাম ফারুক তানভীর জীবন বলেন,আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাদের শিখিয়েছেন মানুষকে ভালোবাসতে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় ন্যায়ের পথে লড়তে শিখিয়েছেন। সেই আদর্শের কর্মী হিসেবে আমি কখনোই দলের বদনাম হতে দেব না।
৬নং সুইয়ার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “আমি পদের লোভে রাজনীতি করি না। সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চেয়েছি। আল্লাহর ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। ৬নংসুইয়ার ইউনিয়ন পরিষদ মানুষ যদি চায়, তবে আমি একটি ‘মডেল ইউনিয়ন ‘ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।”
আদাবরের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, গোলাম ফারুক তানভীর জীবনের মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত সৎ নেতারা নেতৃত্বে থাকলে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের জেল-জুলুম গুম আর বঞ্চনা সয়েও মাঠ না ছাড়া এই নেতার প্রতি জনসমর্থন এখন তুঙ্গে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।