নিজস্ব প্রতিবেদক
মৌলভীবাজার জেলা এর সদর উপজেলার ৯নং ওয়ার্ড আকবরপুর এলাকার অন্তর্গত গিয়াস নগর বাজার এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এতে ছোট ছোট দোকানিরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পাকিস্তান আমল থেকেই ৯নং ওয়ার্ড আকবরপুর এলাকার এই বাজারটি “পাটের বাজার” নামে পরিচিত। একসময় এই বাজারটি ছিল এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। তবে বর্তমানে বাজারটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ বাজার সম্পর্কে অবগত নয়। বর্তমানে এখানে মাত্র তিন-চারটি ছোট দোকান টিকে আছে।
এই বাজারের একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী আয়াছ আহমদ, যিনি “আয়াছ ভ্যারাইটিজ স্টোর” পরিচালনা করেন, তিনি বলেন—
“আমরা ঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারছি না, কোনো লাভও হচ্ছে না। কারণ প্রতিটি পণ্যের দাম অনেক বেশি। বড় বড় ব্যবসায়ীরা (পাইকাররা) পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করছে।”
তিনি আরও বলেন—
“আমরা যখন খুচরা বিক্রি করি, তখন পণ্যের দাম শুনে অনেক ক্রেতাই বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন— এখানে অন্য দোকানের তুলনায় পণ্যের দাম এত বেশি কেন? এতে আমাদের ওপর গ্রাহকদের আস্থা কমে যাচ্ছে।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়ে একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
আয়াছ আহমদ আরও বলেন—
“এতে সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হন, পাশাপাশি আমরা ব্যবসায়ীরাও যেন সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারি— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
স্থানীয়দের মতে, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং পাইকারি পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
শেষ কথা:
পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি।
মাননীয় সরকারের প্রতি অনুরোধ, মৌলভীবাজার জেলা সহ সমগ্র বাংলাদেশে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশ:
সাংবাদিক শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ
ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেসক্লাব ঢাকা বাংলাদেশ