মোঃ দুলাল সরকার গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের সকালের নাস্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও পচা ডিম। অস্বাস্থ্যকর এই খাবার খেয়ে অন্তত দুইজন রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ওয়ার্ডের রোগীদের নাস্তা হিসেবে পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। কিন্তু খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহকৃত পাউরুটির প্যাকেটে থাকা মেয়াদের তারিখ একদিন আগেই শেষ হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধ ডিমগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় অধিকাংশ রোগীই এই নাস্তা খেতে পারেননি।
রোগী ইব্রাহিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রুটিতে ছত্রাক পড়ে গেছে আর ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এই খাবার কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে। হাসপাতালের খাবার খেলে মানুষ সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
রোগীর স্বজন মানসুরা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাত বছর বয়সী ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। সকালের নাস্তায় যে রুটি দেওয়া হয়েছে তার মেয়াদ গতকালই শেষ হয়েছে। ডিম থেকে পচা গন্ধ আসছিল। এই খাবার খেয়ে অন্তত একজন নারী রোগী বমি ও অসুস্থ অনুভব করেছেন। কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়ি চলে গেলেন।’
হাসপাতালে ভর্তি ডায়াবেটিস রোগী হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা কি মানুষ নই? গরু-ছাগলকেও কেউ এমন পচা খাবার দেয় না। চরম অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’
জানা গেছে, হাসপাতালে নাস্তা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী নামের ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বরাবরই নির্বিকার।
এ বিষয়ে কথা বলতে মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খন্দকার আরশাদ কবির বলেন, ‘একজন রোগী রুটি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি যদি সত্য হয় তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।’
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’