শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে তথ্য আইনেও মিলছে না তথ্য, আমলাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক মহলে অসন্তোষ।

Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করেও সময়মতো তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ‘ব্যাকডেটে’ চিঠি ইস্যু করে তথ্য প্রদান প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম টিটিসিতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন চ্যানেল ওয়ান ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. রাশিদুল ইসলাম। আবেদনের প্রেক্ষিতে টিটিসির পক্ষ থেকে একটি লিখিত পত্র ইস্যু করা হয়। পত্রটিতে ১৭ মে ২০২৬ তারিখ উল্লেখ থাকলেও সেটি আবেদনকারীর হাতে পৌঁছে ২১ মে ২০২৬ তারিখে। অথচ কুড়িগ্রাম ভকেশনাল মোড়ে অবস্থিত টিটিসি থেকে পুরাতন স্টেশন এলাকায় আবেদনকারীর বাড়ির দূরত্ব মাত্র প্রায় ৫ কিলোমিটার।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—স্বল্প দূরত্বের একটি চিঠি পৌঁছাতে কেন পাঁচ দিন সময় লাগলো? অভিযোগ উঠেছে, মূলত তথ্য প্রদান এড়াতে এবং সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যেই ব্যাকডেটে পত্র ইস্যু করা হয়েছে।
টিটিসির অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, আবেদনকৃত তথ্যের মধ্যে সরকারি ক্রয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, আর্থিক ব্যয়, বাজেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব তথ্য সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন ও বিধি অনুযায়ী ফি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। পাশাপাশি ৩ কার্যদিবস সময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন ও ফি জমাদানের কথা বলা হলেও ওই সাংবাদিক অধ্যক্ষের চিঠি হাতে পান পাঁচদিন পর। অর্থাৎ ২১ মে।

তবে সাংবাদিকদের অভিযোগ, তথ্য অধিকার আইন থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সরকারি দপ্তরে তথ্য পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের। শুধু টিটিসিই নয়, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, এমনকি জেলা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও তথ্য দিতে অনীহা দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের ভিডিও বক্তব্য দিতেও এড়িয়ে চলেন।

এ ঘটনায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, তথ্য গোপন, সময়ক্ষেপণ ও অসহযোগিতার সংস্কৃতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।

চ্যানেল ওয়ান ও প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “জনগণের টাকায় পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যদি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেই জবাবদিহি না করেন, তাহলে স্বচ্ছতা ও সুশাসন কীভাবে নিশ্চিত হবে? এছাড়া দপ্তরগুলোতে তথ্য চাইলেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তথ্য নিতে নিরুৎসাহিত করাসহ নানারকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এটি খুবই খারাপ কালচার।”

দৈনিক আগামীর সময় ও টাইমস্ অব বাংলাদেশ-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগ জানান, “টিটিসির অধ্যক্ষ তথ্য না দিতেই মুলত এমনটি করেছেন। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীন সাংবাদিকতা ও আমলাদের জবাবদিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন সেখানে জেলার কিছু কর্মকর্তা ক্যামেরা দেখলেই মুখ লুকাচ্ছেন। এটি সরকার প্রধানের নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। তা না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা, জবাবদিহিতা মুখ থুবড়ে পরবে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহানুর রহমান বলেন, “সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়া বা বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। এতে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ ব্যাহত হয় এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। জনস্বার্থে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও গণমাধ্যমবান্ধব হওয়া প্রয়োজন।”

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম টিটিসির অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. রেজাউল করিম বলেন, “আপনার আপত্তি থাকলে ঈদের পর আবারো চিঠি ইস্যু করব। এতে কোন সমস্যা হবে না। টেনশন করিয়েন না, আপনারা তো বোঝেন আমাদেরকে অনেক নিয়ম মানতে হয়।”


More News Of This Category