উপজাতীয় সংগঠন কর্তৃক বিলুপ্ত ও বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ
বান্দরবান প্রতিনিধি
দেশের সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাতিলকৃত ‘উপজাতি কোটা’ পুনর্বহালের দাবিতে পার্বত্য কথিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান সরকারি কলেজ শাখা’-র ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশের নামে পাহাড়ে স্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক কোটা আন্দোলন থেকে একটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে সৃষ্টি হয়, যার ফলে কোটা প্রথার বিলুপ্তি ও স্বৈরাচারের পতন ঘটে। ফ্যাসিবাদী ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সেই অভ্যুত্থানে দেড় হাজার ছাত্র-জনতা শহিদ হন এবং ত্রিশ হাজারের অধিক মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন। তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই কোটামুক্ত বাংলাদেশে কোটা পুনর্বহালের চক্রান্ত মূলত জুলাইয়ের চেতনা এবং শহিদদের রক্তের সাথে বেঈমানি।
উপজাতিরা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.১৮ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে ৫ শতাংশ কোটা দাবি করা চরম বাস্তবতা বিবর্জিত। ইতোপূর্বে কোটা প্রথা সংস্কার ও বিলুপ্ত হলেও উপজাতিদের জন্য ১ শতাংশ কোটা এখনও বহাল রয়েছে। এরপরও মনগড়া ৫ শতাংশ কোটার দাবি সম্পূর্ণ হাস্যকর। তদুপরি, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি এবং একই অঞ্চলে বসবাস, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা করা সত্ত্বেও কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য কোটা বরাদ্দ থাকা এবং বাঙালিদের বঞ্চিত রাখা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতি চরম বৈষম্য ও শোষণের শামিল, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যানারে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় পরিপন্থী নিষিদ্ধ ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ। তাছাড়া আজকের বিক্ষোভ মিছিলে ‘পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ বান্দরবান সরকারি কলেজ শাখা’-র ব্যানার ব্যবহার করা হলেও মূলত বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোমলমতি কিশোরী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।
ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার নামে পাহাড়ের শান্তি বিনষ্টকারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই আন্দোলনকে প্রশ্রয় না দিয়ে, এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের ছক উন্মোচন করে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে যেকোনো অশুভ চক্রান্ত জোরালোভাবে প্রতিহত করা হবে।
বার্তা প্রেরক,
দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ
বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখা