পথ আছে, নেই নিরাপদে পথ চলার পরিবেশ
‘সংস্কারহীন রংপুর-ডিমলা সড়ক: খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ, নিত্যদিনের সঙ্গী দুর্ঘটনা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সড়ক আছে, কিন্তু নেই স্বাভাবিক চলাচলের নূন্যতম পরিবেশ। পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ইটের খোয়া, তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো পথ। এমন নাজুক অবস্থায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রংপুর-ডিমলা’ আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। এতে যেমন প্রতিনিয়ত বিকল হচ্ছে যানবাহন, তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও নাউতারা ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই রংপুর-ডিমলা আঞ্চলিক সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের মুখ না দেখা সর্দারহাট থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির বিভিন্ন অংশ এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নাউতারা বাজার চৌপতি থেকে সর্দারহাট জাতীয় সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তবে বুড়িরহাট থেকে নাউতারা বাজারের চৌপতি পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার অংশে দায়সারা সংস্কার করা হলেও কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারীরা।
সরেজমিনে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সর্দারহাট চৌপতি থেকে সোনামণির ডাঙ্গা ইউপি ভবন পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। অধিকাংশ স্থানে পিচের কোনো চিহ্নই নেই, সড়কটি পরিণত হয়েছে কাঁচা মাটির রাস্তায়। খানাখন্দের কারণে সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশার মতো হালকা যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগের এটিই একমাত্র পথ। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গেলে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় করছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ভাটিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হযরত আলী ও আব্দুল লতিফ জানান, সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে সময়মতো নাউতারা বাজার বা উপজেলা সদরে কৃষিপণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও অনেক সময় পণ্য পরিবহনের জন্য যানবাহন পাওয়া যায় না।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই কঙ্কালসার অবস্থা নিয়ে নাউতারা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, “সড়কটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সংস্কারের বিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার কথা বলা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান জানান, “সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।”
প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও কবে নাগাদ এর বাস্তবায়ন হবে বা সংস্কার কাজ শুরু হবে—তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।