রুমিন ফারহানা ,
বায়ান্নর ভাষা সৈনিক অলি আহাদের একমাত্র মেয়ে। বহুল আলোচিত ব্যাপক সমাদৃত সময়ের সাহসী নারী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা,জন্মদিন,,৷ মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র রিপোটার,,,,
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শেষ উত্তরাধিকার। ১৯ আগস্ট, ২০২৬খ্রি. তাঁর ৪৫তম জন্মদিন। জন্মদিনে শুভেচ্ছা মাননীয় সাংসদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০২৬-এ নির্বাচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। এর আগেও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। রুমিন হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে আইনে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের লিংকনস্ ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। রুমিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ঢাকা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য। তিনি আইন ও রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশী লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নিবন্ধিত আইনজীবী।] এছাড়া তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। এই পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ওনার বাবা ভাষাসৈনিক, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও লেখক অলি আহাদ। অলি আহাদ সম্পর্কে বাংলাদেশের সব প্রান্তের নতুন নতুন প্রজন্মগুলো খুব ভালোভাবে জানে বলে মনে হয় না। সাংসদ রুমিন ফারহানার জন্মদিনে আমি খুব সংক্ষেপে সে চেষ্টাই করলাম নিচে।
অলি আহাদ ১৯২৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আবদুল ওহাব। ১৯৪৪ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র অলি আহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.কমে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয় এবং তিনি এম.কম ডিগ্রি লাভ থেকে বঞ্চিত হন।
১৯৪৬ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে গণভোটে তিনি ত্রিপুরা জেলার চার সদস্যবিশিষ্ট ওয়ার্কাস ক্যাম্পের অন্যতম সদস্য ছিলেন। কলেজ জীবনেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুসলিম ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে আসেন। অলি আহাদ তার জীবনের দীর্ঘ ১৯ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। এক এরশাদ আমলে তিনি আটবার জেলে যান। রাজনীতি করেছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক মেরুকরণের সময় তিনি মাওলানা ভাসানীর সাথে প্রগতিশীলদের পক্ষে যোগ দেন। তিনি চিরদিন গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বপক্ষে সংগ্রাম করেন।
তিনি ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নায়ক ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের জন্য সর্বপ্রথম তিনিই গ্রেপ্তার হন। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ১৯৪৮ সালের ২৯ মার্চ তৎকালীন সরকার তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের জন্য বহিষ্কার করে। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। ১৯৪৭-১৯৭৫ সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে মুসলিগ লীগ ও পরে আওয়ামী লীগে ছিলেন। এরপর আমৃত্যু তিনি ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি সাপ্তাহিক ‘ইত্তেহাদ'(পরে দৈনিক) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রথম মহিলা মহাপরিচালক ছিলেন। তাঁর একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সংসদ এবং দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতা সংবলিত গ্রন্থ জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-১৯৭৫-এর প্রণেতা তিনি। স্বাধীনতা ও মক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অলি আহাদকে ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর এই ভাষাসৈনিকের জীবনাবসান ঘটে।
রেজাউল করিম মুকুল, ২০ আগস্ট, ২০২৬খ্রি.