মিঠাপুকুরে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: হুমকির মুখে ৫ দিন পর মামলা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
, ২৬ জুলাই, ২০২৬
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন (৪০) নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে আসামির পরিবার ও সহযোগীদের প্রাণনাশের হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবার কোনো মামলা করতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে (ভাইরাল হলে) তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং ঘটনার পাঁচ দিন পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মামলা দায়ের করে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। শিশুটির মা মারা গেছেন এবং বাবা ভবঘুরে হিসেবে জীবনযাপন করায় সে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) একই এলাকার বাছিদ মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন নাস্তা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ফুসলিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আবুল হোসেন কৌশলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে রক্তাক্ত ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্ত আবুল হোসেন এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে শুরু থেকেই নানা চাপ সৃষ্টি করা হয়। থানায় অভিযোগ না দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি পরিবারটিকে কড়া নজরদারিতে রেখে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়, যার কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে কেউ থানায় গিয়ে মামলা করার সাহস পাননি।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ (OCC) পাঠায়। একই রাতে মিঠাপুকুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। শনিবার রাতে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে।