শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
তথ্য চাইতেই ক্ষিপ্ত সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড, সাংবাদিকের বুম-ক্যামেরা ধাক্কিয়ে অফিস ত্যাগ জেফারসন ডেমোক্রেটিক ক্লাবে কংগ্রেসম‍্যন টম সুয়াজীর নির্বাচনী সভায় খোকন ও মানিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ সম্আপাদকীয় মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ সারাদেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি* বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস: যমুনার গ্রাসে বিলীনের শঙ্কায় সাঘাটার শত শত পরিবার নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে `ভিসা ও থাই লটারি` প্রতারক চক্রের ০২ (দুই) জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার বিষাক্ত পানি পান করে শত শত শ্রমিক অসুস্থ

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস: যমুনার গ্রাসে বিলীনের শঙ্কায় সাঘাটার শত শত পরিবার

Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

  1. কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস: যমুনার গ্রাসে বিলীনের শঙ্কায় সাঘাটার শত শত পরিবার

    আরমান হোসেন রাজু
    রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
    ০১৭১৭৭৭৬৯৭২

    ১৮ জুন, ২০২৬

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধে নির্মিত সিসি ব্লক এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং বাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা নদীর পানির সামান্য চাপেই প্রকল্পের ১০ নম্বর সাইডের ব্লকগুলো ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

    ​পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই এবং বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধে এই ধসের ঘটনায় স্থানীয় শত শত পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ব্লক স্লোপিং (ঢালু করা) করার ক্ষেত্রে যে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সিডিউল ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার পায়তারা করছিল। নদী তীরের মাটি সঠিকভাবে ভরাট ও বিন্যস্ত না করেই সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কারণে আজ পানির সামান্য চাপ আসতেই বাঁধটি তা সহ্য করতে পারেনি। চোখের পলকেই ১০ নম্বর সাইডের বিশাল অংশের ব্লকগুলো ধসে নদীর পানিতে নিমজ্জিত হয়।

    ​বর্ষার শুরুতেই বাঁধের এই নাজুক দশা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন যমুনা পাড়ের মানুষ। কাজ শেষ হতে না হতেই বাঁধ ধসে যাওয়ায় গোবিন্দপুর ও এর আশপাশের এলাকার শত শত পরিবার এখন নতুন করে নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    ​ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,সরকার আমাদের নদী ভাঙন থেকে বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, আর ঠিকাদাররা চুরি করে ফাঁকি দিয়ে কাজ করায় সামান্য পানিতেই সব ধসে গেল। আমরা এখন ঘরবাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে আছি। এই অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

    ​পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ বুঝে নেওয়ার আগেই এই ধসের ঘটনা ঘটায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকায় পাউবো বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    ​নদী পাড়ের মানুষের দাবি, অনতিবিলম্বে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে যমুনার গ্রাস থেকে গোবিন্দপুর এলাকাকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


More News Of This Category