নিউজ ডেস্ক, বাংলার সংবাদ।
বিষয়: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম’ এবং ‘এথিক্যাল মাইগ্রেশন’-এর আওতায় বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধকরণ।
### ১. পটভূমি ও উদ্দেশ্য
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা দেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি আমাদের মেধাবী যুবসমাজকে বিপদে ফেলছে। এই সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করতে একটি সুসংগঠিত এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের তদারকি প্রয়োজন, যার মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে ১০ লক্ষ কর্মীকে বৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (ইতালি, আলবেনিয়াসহ অন্যান্য) কর্মসংস্থান করা সম্ভব।
### ২. মূল লক্ষ্যসমূহ (Key Goals)
* **অনিয়মিত অভিবাসন রোধ:** বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার অবৈধ পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
* **বিশাল কর্মসংস্থান:** আগামী ৫ বছরে ১০ লক্ষ দক্ষ কর্মীকে ইউরোপের শ্রমবাজারে যুক্ত করা।
* **ভিকটিম সাপোর্ট:** ২০২৩-২৪ সালে যাদের ইতালি কাজের পারমিট বাতিল হয়েছে, তাদের পুনঃপ্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো।
* **আলবেনিয়া মার্কেট ওপেনিং:** বন্ধ থাকা আলবেনিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা।
### ৩. কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা (Strategic Action Plan)
#### ক. লিবিয়া রুট ও মানবপাচার প্রতিরোধ
* মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো পাচারপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন এবং প্রবাসী কমিউনিটিকে সচেতন করা।
* লিবিয়া থেকে ফিরে আসা ভিকটিমদের তালিকাভুক্ত করে তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ইউরোপের বৈধ প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব (ইতালি ও ইইউ-এর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে)।
#### খ. দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাক-যাত্রা প্রশিক্ষণ (PDO)
* ইউরোপের চাহিদানুযায়ী ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (TTC) আধুনিকায়ন।
* ইতালিয়ান এবং ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্পেশাল ট্রেনিং কারিকুলাম প্রণয়ন।
#### গ. কূটনৈতিক তৎপরতা ও ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’
* ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ চুক্তি জোরদার করা।
* আলবেনিয়া সরকারের সাথে বিশেষ ‘পাইলট প্রজেক্ট’ শুরু করা, যেখানে কর্মীরা ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা নিয়ে যাবে যাতে তারা সেখান থেকে অন্য দেশে পালিয়ে না যায়।
### ৪. প্রশাসনিক কাঠামো প্রস্তাবনা (Administrative Structure)
একটি সমন্বিত লক্ষ্য অর্জনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো প্রয়োজন:
* **আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি:** প্রবাসী কল্যাণ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন।
* **ইইউ অভিবাসন সেল (EU Migration Cell):** ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সময়োপযোগী মাইগ্রেশন পলিসি নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন।
* **মনিটরিং ও ইভালুয়েশন:** পুরো প্রক্রিয়াটি যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখে তা নিয়মিত তদারকি করা।
### ৫. প্রত্যাশিত ফলাফল
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে:
১. বাংলাদেশ ‘অনিয়মিত অভিবাসন’ সৃষ্টিকারী দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে।
২. ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের জনশক্তির গ্রহণযোগ্যতা ও ব্র্যান্ডিং বৃদ্ধি পাবে।
৩. বিশাল অংকের বৈদেশিক রেমিট্যান্স অর্জিত হবে যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিনিত নিবেদনে।
শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন।