সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
Headline :
জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকীতে লালমনিরহাটে দোয়া ও খাবার বিতরণ। নিউইয়র্কে ‘অ্যল কাউন্টি হোমকেয়ার’র অষ্টম শাখা চালু করলো । দুলাভাইয়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে ঝরল তরুণীর প্রাণ, পুলিশ সদস্য আহত। ঈদকে কেন্দ্র করে মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ, ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ। তেঁতুলিয়ায় নদীতে ডুবে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু। কালিয়াকৈরে হাইটেক সিটি রেলস্টেশনে রেললাইন মেরামতের বিশেষ রেলগাড়ির মালামাল চুরি ১ জন আটক। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় শিল্প ও বানিজ্য মেলার নামে চলছে অবৈধ জুয়ার আসর। অর্ধকোটি টাকায় ঐতিহ্য রক্ষার মহৎ উদ্যোগ: গার্ড পরিবারের অর্থায়নে সংস্কার হচ্ছে ১৯৪০ সালের ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়। তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে ফুলছড়িতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন।

পিতার সব সম্পত্তি একজনকে লিখে দিলে বাকি সন্তানদের করণীয় কী?

Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

_আইনি বিশ্লেষণ_

*নিজস্ব প্রতিবেদক:* পিতা যদি জীবিত অবস্থায় তার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কোনো এক সন্তান বা ব্যক্তিকে লিখে দেন, তবে বাকি ওয়ারিশদের আইনগত অবস্থান কী হবে— এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও মুসলিম উত্তরাধিকার বিধি অনুযায়ী এর সমাধান নির্ভর করে সম্পত্তি কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে তার ওপর।

*১. হস্তান্তরের ধরন যাচাই জরুরি*
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমে দেখতে হবে পিতা সম্পত্তিটি কীভাবে হস্তান্তর করেছেন।

*হেবা বা দান:* পিতা যদি সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বেচ্ছায় এবং কারো প্ররোচনা ছাড়া ‘হেবা’ বা ‘দান’ দলিল রেজিস্ট্রি করে যান, তবে তা সাধারণত বৈধ। মুসলিম আইনে সুস্থ অবস্থায় পিতা তার সমুদয় সম্পত্তি যেকোনো একজনকে দান করতে পারেন।

*অসিয়ত:* তবে মৃত্যুর পর কার্যকর হবে— এমন অসিয়তের ক্ষেত্রে মুসলিম আইনে মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি কার্যকর হয় না, যদি না অন্য ওয়ারিশরা সম্মতি দেন।

*২. যেসব কারণে দলিল চ্যালেঞ্জ করা যায়*
বাকি ওয়ারিশরা নিম্নলিখিত কারণে আদালতে দলিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন:

– *মানসিক ভারসাম্যহীনতা:* হস্তান্তরের সময় দাতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সুস্থ না থাকলে।
– *প্রতারণা বা বলপ্রয়োগ:* ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে বা জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর নিলে।
– *অনিবন্ধিত দলিল:* রেজিস্ট্রি না করা দলিলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
– *দখল হস্তান্তর না হওয়া:* হেবার ক্ষেত্রে শুধু দলিল নয়, দখলও বুঝিয়ে দিতে হয়। দখল না দিলে দানের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

*৩. আইনি প্রতিকার ও মামলা*
বঞ্চিত ওয়ারিশরা দেওয়ানি আদালতে দুই ধরনের মামলা করতে পারেন:

– *দলিল বাতিলের মামলা:* জালিয়াতি বা জোরপূর্বক দলিল করা হয়েছে মনে হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে।
– *ঘোষণামূলক মামলা:* বিতর্কিত দলিলটি অবৈধ ঘোষণা এবং নিজেদের উত্তরাধিকার স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।

*আইনজীবীদের পরামর্শ:* যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে কাগজপত্র যাচাই করে নিতে হবে।

*- মোঃ আবুল হাসেম*
*প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক বাংলার সংবাদ*
*সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেটর কাউন্সিল*


More News Of This Category