রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে প্রবাসী নওশের আলম চৌধুরীর মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেনা জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায় বাদীপক্ষের পক্ষে গেলেও বিবাদীরা সেই রায় অমান্য করে জোরপূর্বক সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে রংপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে উক্ত মসজিদ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তবে শাহিনুর বেগম জায়গাটি জবরদখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করায় এবং পাশ্ববর্তী অন্যান্যরা জায়গা খালি করে না দেয়ায় নির্মাণ কাজ স্থগিত রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী নওশের আলম চৌধুরী ও শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের মালিকানাধীন জমি দখল করে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এবং নওশের আলম চৌধুরী সাক্ষী হিসেবে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (মামলা নং এমআর ৮১৯/২৪) মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে বাদীপক্ষের পক্ষে রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত বিবাদী শাহিনুর বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের উক্ত জমিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আদেশ দেন।
তবে আদালতের আদেশ অমান্য করে শাহিনুর বেগম সম্প্রতি ওই জমিতে জোরপূর্বক আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি উল্টো হুমকি দেন ও অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “শাহিনুর বেগম খুবই খারাপ ব্যবহার করেন, কারো কথা শোনেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে গায়ে পড়ে ঝগড়াঝাটি শুরু করেন এবং তিনি নিজেই নিজের পরনের কাপড় ছিঁড়ে উল্টো থানায়-কোর্টে মামলার হুমকি দেন। তার কারণে এলাকায় ভয়ভীতি বিরাজ করছে।”
তারা আরও বলেন, “স্থানীয় ও পাশ্ববর্তী পাড়ার কিছু লোক এখানে মসজিদ হোক সেটা চান না, তাই শাহিনুর বেগম সহ কিছু মানুষকে ইন্ধন দিয়ে এগুলো করাচ্ছেন।”
মসজিদের জমি দাতা প্রবাসী নওশের আলম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “আমি বিদেশে পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমিটি কিনেছি। আদালতের রায় আমার পক্ষে হলেও তারা জমি ছাড়ছে না, উল্টো আমাদের ওপর হামলা করছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই বিবাদী পক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে প্রবাসী নওশের আলম চৌধুরীর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।
সম্প্রতি দেশে ছুটিতে আসলে আলোয়াকুড়ি এলাকায় ফের তার ওপর হামলা চালানো হয়। এমনকি নিজেদের বাড়িতে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে প্রবাসীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে তাৎক্ষণিক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এব্যাপারে ওসি মো. আব্দুল গফুর বলেন, “অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।