কাঠমান্ডু (নেপাল), ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা মো. আসাদুজ্জামান আপেল। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক আয়োজনে তিনি মর্যাদাপূর্ণ পূর্ণ অর্থায়িত ‘এসডিজি চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার’ অর্জন করেন।
মাত্র ২১ বছর বয়সী এই উদ্ভাবক গাইবান্ধা জেলার রংপুর অঞ্চলের সন্তান। তিনি প্রস্তাবিত প্রকল্পভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনরোল-মেন্টর পাবলিক লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তার যুগান্তকারী উদ্যোগ “মানবাধিকার ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে এআই ও রোবোটিক্স” শীর্ষক প্রকল্পের জন্য তাকে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিকে মানবাধিকার, শিক্ষা,কর্মসংস্থান,দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় উন্নয়ন কাঠামো উপস্থাপন করায় বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে তাকে ‘এসডিজি চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে নির্বাচিত করেন।
১৬টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগ
এই প্রকল্পটি জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মধ্যে ১৬টি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
এর মধ্যে রয়েছে— দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠন, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ,নারী-পুরুষ সমতা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন,সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শোভন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও উদ্ভাবন, বৈষম্য হ্রাস,টেকসই নগর ও জনপদ গঠন, দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন লক্ষ্যে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব।
পুরস্কার গ্রহণকালে আসাদুজ্জামান আপেল বলেন,
এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আধুনিক প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমার লক্ষ্য।”
তার এই সাফল্যে গাইবান্ধাসহ সারাদেশে তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হয়েছে।